বাড্ডায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নিহত ১

রাজধানীর মধ্যবাড্ডা ডিআইটি রোডে একটি বাসায় জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন গার্মেন্টস কর্মী এক নারী।

নিহতের নাম সোলেমান (৩০) আর দগ্ধ নারীর নাম শান্তা বেগম (২৭) বলে জানা গেছে। রান্নাঘরে গ্যাস লিকেজ থেকে অথবা সুয়ারেজ লাইনের বিষাক্ত গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণ হতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সকাল সোয়া ৬টার দিকে ডিআইটি ৪ নম্বর রোড খোকন দারোগার তিনতলা বাড়ির নিচতলায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং দগ্ধ নারীকে হাসপাতালে পাঠায়।

ফায়ার সার্ভিসের বারিধারা স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম জানান, সকাল ৬:৪৩ মিনিটে খবর পেয়ে বারিধারার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাসাটির নিচতলায় বিকট বিস্ফোরণ হয়েছে। সেই বাড়িটির সামনে রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় সোলেমান নামে ওই যুবকের লাশ।

তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে, নিচ তলার বাসার রান্নাঘরে তিতাস গ্যাসের লাইনের পাইপ থেকে লিক হয়ে গ্যাস জমে ছিল অথবা বাসার সামনে সুয়ারেজ লাইন থেকে বিষাক্ত গ্যাস ওই বাসায় জমে ছিল। সেখান থেকেই সকালে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিস্তারিত আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, হাসপাতালে দগ্ধ শান্তার স্বামী মো. নাসির হাওলাদার জানান, বাড়িটি নিচতলায় ভাড়া বাসায় থাকেন তারা স্বামী স্ত্রী। শান্তা স্থানীয় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন আর নাসির মাছের আড়তে কাজ করেন। রাতে খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোর পাঁচটার দিকে ঘুম থেকে উঠেই কাজে চলে যান নাসির। তখনও ঘুমিয়ে ছিলেন শান্তা। এরপর কিছুক্ষণ পর তিনি খবর পান, তাদের বাসায় বিকট বিস্ফোরণ হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি দৌড়ে বাসায় গিয়ে দেখেন বাসার সামনে দগ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন শান্তা। তার সমস্ত শরীর পুড়ে গেছে। তাকে ভিড় করে লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। তখন তিনি সঙ্গে সঙ্গে শান্তাকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, গত বুধবার রাতে তিনি যখন বাসায় যান এরপরে বাসায় গ্যাসের গন্ধ পান। গন্ধটি তাদের বাসার রান্নাঘরের থেকেও বের হতে পারে অথবা বাসার সামনে রাস্তা খুড়ে যেই কাজ চলছিলো সেখান থেকেও গ্যাস বের হয়ে থাকতে পারে।