দক্ষিণ আফ্রিকায় পার্লামেন্ট নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)। দেশটিতে ৩০ বছর পর ক্ষমতাসীন দল এবারই নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের শিকার হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ভোটের প্রথম ফলাফলে এ চিত্র দেখা গেছে।
এর আগে বুধবার (২৯ মে) দেশটিতে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছে জনগণ। নির্বাচন পরবর্তী জরিপের তথ্যমতে, নির্বাচনে বৃহত্তম দল হিসেবে বিজয়ী হলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে যাচ্ছে এএনসি।
বিবিসির খবরে বলা হয়, নিবার্চন কমিশন প্রাথমিকভাবে ১৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফল প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, এএনসি পেয়েছে ৪৩ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক জোট (ডিএ) পেয়েছে ২৫ শতাংশ এবং মার্কসবাদী অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সংগ্রামী দল (ইএফএফ) ৯ শতাংশ এবং জ্যাকব জুমার এমকে পার্টি জিতেছে ৮ শতাংশ ভোট।
তাতে ধারণা করা হচ্ছে, এএনসি ৪২ শতাংশে ভোটই পেতে পারে। যদি চূড়ান্ত ফল প্রাথমিক চিত্রের মতোই হয়, তাহলে এএনসিকে দেশ শাসন করার জন্য এক বা একাধিক অন্য দলের সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হতে হবে। অর্থাৎ জোট সরকারে যেতে হবে।
প্রাথমিক ফলাফলের বিচারে মনে হচ্ছে, ১৯৯৪ সালে বর্ণবাদী ব্যবস্থার অবসানের পর নেলসন ম্যান্ডেলার দল এএনসি প্রথমবারের মতো সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে৷ চূড়ান্ত ফল আগামী রবিবার (২ জুন) নাগাদ মিলতে পারে।
আগের নির্বাচন ২০১৯ সালে এএনসি ৫৭ শতাংশের বেশি ভোট জিতে সরকার গঠন করেছিল। অন্য দলগুলোর মধ্যে ডিএ ২০.৮ শতাংশ এবং ইএফএফ পেয়েছিল ১০.৮ শতাংশ ভোট।
১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসানের পর থেকে বুধবার দেশটিতে সপ্তম গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। ১৯৯৪ সালের নির্বাচনে নেলসন ম্যান্ডেলা জাতীয় পরিষদে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এএনসি দল থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ম্যান্ডেলার উত্তরসূরিরা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
গতকাল ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় রাত ৯টার অনেক পরেও বিভিন্ন শহরে কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের লম্বা সারি দেখা গেছে। এ বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচন কমিশন দ্য ইনডিপেনডেন্ট ইলেকটোরাল কমিশন (আইইসি) বলছে, বিভিন্ন শহরে শেষ মুহূর্তে অনেক ভোটার কেন্দ্রে এসেছেন। তাই ভোট গ্রহণ শেষ হতে সময় বেশি লেগেছে। যদিও ভোটকেন্দ্রে অনেক ভোটার অভিযোগ করেছেন, তিনটি ব্যালটে ভোট দিতে হয়েছে। এটা বেশ জটিল একটি প্রক্রিয়া ছিল।
আইইসি আরও জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ৭০টি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্রসহ মোট ১৪ হাজার ৮৮৯ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার পার্লামেন্টে ৪০০ আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন ২৩০টি রয়েছে এএনসির। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন বা দেশটির বিরোধী দল হচ্ছে ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স। তাদের আসন ৮৪টি। এর বাইরে ইকোনমিক ফ্রিডম ফাইটার্সের আসন ৪৪টি। ইনকাথা ফ্রিডম পার্টির আসন ১৪টি। অন্য ১০টি দলের ২৮টি আসন রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জনগণের সরাসরি ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না। সংবিধানের অধীনে, নবনির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্যরা ভোট দিয়ে দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। তবে এএনসি এবারও ভোটে বিজয়ী বৃহত্তম দল হওয়ার পথে থাকায় সম্ভবত পরবর্তী মেয়াদেও প্রেসিডেন্ট থাকছেন সিরিল রামাফোসা।
তিন দশক ধরে ক্ষমতাসীন দল এএনসির নেতাদের ওপর দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সঙ্কট, বেকারত্ব ও বিদ্যুত সঙ্কটের জন্য ক্ষুব্ধ দেশটির জনগণ। এবার ভোটে তারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।