নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থী পেলেন ৭৩ ভোট, রাস্তা আটকে আ.লীগ নেতার চাঁদা দাবি

৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ২য় ধাপে সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের মুশুরীখোলা এলাকায় নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দেয়ায় গ্রামবাসীর চলাচলের রাস্তায় দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া ও তার মেয়ের জামাই মো. খাজার বিরুদ্ধে। বর্তমানে চলাচলের ওই রাস্তাটি খুলে দেয়ার জন্য গ্রামবাসীর কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন অভিযুক্ত আওয়ামী নেতা শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া। 

সরেজমিনে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ভাকুর্তা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মুশুরীখোলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রবির বাড়ি থেকে শফিকের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১০ ফিট চওড়া একটি রাস্তা রয়েছে। রাস্তাটির মাঝখানে প্রায় ৬ ফুট উচু করে ইট দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করায় স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন, গত ২১ মে সাভার উপজেলা নির্বাচনে চশমা প্রতীকের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ভোট দেয়ার নির্দেশ দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া। কিন্তু ওই এলাকার স্থানীয় প্রার্থী তালা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে এলাকাবাসীরা নিজেদের গ্রামের ছেলেকে ভোট দেন। ফলে নির্বাচনে চশমা প্রতীকের প্রার্থী মাত্র ৭৩ ভোট পায় এবং তালা প্রতীকের প্রার্থী পায় প্রায় ৫ হাজার ভোট। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচনের দুইদিন পর চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে জনসাধারণের চলাচলের পথটি ইট দিয়ে দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেন ওই আওয়ামী লীগ নেতা ও তার মেয়ের জামাই। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, আপনাদের সাথে কথা বলছি জানলে রাতে বাড়িতে হামলা করবে সভাপতির লোকজন। তাদের ভয়ে আমরা কোনো কথাও বলতে পারি না। নিজেরা টাকা দিয়ে জমি কিনে রাস্তা করার পরও সেই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছি না। বৃষ্টি-কাদার মধ্য অন্যদিক দিয়ে ঘুরে আমাদের কর্মস্থলে যেতে হয়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়লে রিকশা-ভ্যান না আসতে পারায় কষ্ট করে তাদেরকে কোলে করে সড়কে নিতে হচ্ছে। আমরা আমাদের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে চাই এজন্য সভাপতি চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি। 

এলাকাবাসীরা জানান, সভাপতি শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে রাজু সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীবের পিএস হওয়ায় তার এবং তার পরিবারের লোকজন সাধারণ মানুষকে মানুষ মনে করে না। এলাকায় কেউ জমি কিনলে কিংবা বাড়ি করলে এবং বিচার-শালিসসহ সকল কাজেই শাহাবুদ্দিনকে চাঁদা দিতে হয়ে। তাদের কথার অবাধ্য হলেই অত্যাচার-নির্যাতনসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয় সাধারণ গ্রামবাসীদের। 

মশুরীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী উর্মিলা বলেন, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের হাঁটা চলার অসুবিধা হচ্ছে। স্কুলে যাওয়ার জন্য অনেক পথ ঘুরে আসতে হয় এতে আমাদের সময় নষ্টের পাশাপাশি কষ্টও হয়। আমরা চাই রাস্তাটা আগের মত করে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হোক। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য রোজিনা বেগম বলেন, গত উপজেলা নির্বাচনে সভাপতির চশমা প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার অপরাধে সভাপতি চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। তাকে চার লাখ টাকা না দিলে তিনি দেয়াল সরাবেন না বলেও জানান।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভাকুর্তা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন ভূইয়া বলেন, রাস্তা এমনিই বন্ধ করছি। আমি মেয়ের জামাইকে (খাজা) বলছি রাস্তায় চার-পাঁচটা ইটা গাইথা রাখো। 

রাস্তার জন্য চাঁদা দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এ রাস্তা নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় আগে মামলা হয়েছিল। সেখানে হাজিরা দিতে এবং মামলা চালাতে আমার আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়। আমি সেই টাকাই দাবি করছি। 

রাস্তা বন্ধের বিষয়ে ভাকুর্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. লিয়াকত হোসেন বলেন, নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের কাজ রাস্তা তৈরি করা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা না। এটা যেই করে থাকুক না কেন বিষয়টি সমর্থন করি না। এ ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহুল চন্দ বলেন, রাস্তা বন্ধের বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। তবে যে বা যারাই রাস্তা বন্ধ করুক আমরা সেটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিবো।