ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে ইমামকে রাজকীয় বিদায়

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে চাড়িয়ে রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বিদায় বেলায় মসজিদের ইমামকে সম্মানিত করার এমন উদ্যোগে প্রশংসায় ভাসছেন এলাকাবাসী।

শুক্রবার (৩১ মে) বাদ জুমা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জিগরীর ক্ষিদ্রমালঞ্চি এলাকায় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমামের সম্মানে এ বিরল বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নামাজ শেষে তাকে এ রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পেশ ইমাম মো. মুনছুর রহমান (৭৫) ওই মসজিদের ৪১ বছর যাবৎ পেশ ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ইমাম মুনছুর রহমান ওই ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকার মৃত খেদমত আলী পরামানিকের ছেলে।

জানা যায়, ১৯০১ সালে ওই মসজিদটি স্থাপিত হয়। এর পর ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি নিজে থেকে স্বেচ্ছায় ইমামের দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি চাওয়ায় এলাকাবাসি তার সম্মানে তাকে এ সংবর্ধনা দেন।

ক্ষিদিরমালঞ্চি এলাকার স্থানীয় মেম্বার সেলিম রেজা জানান, এলাকবাসীর এমন উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। তিনি এ রকম আয়োজন এর আগে কখনও দেখেননি। এ রকম আয়োজন করায় তিনি এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানান।

ওই মসজিদ কমিটির সভাপতি আরশেদ আলী লাল চান জানান, ইমাম মুনসুর রহমান দীর্ঘ ৪১ বছর তাদের মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আমাদের সবার সাথে মিশে ছিলেন। গ্রামবাসী তার পরামর্শ নিয়ে কাজকর্ম করতেন। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবকের মতো। তিনি স্বেচ্ছায় বিদায় নেওয়ায় আমরা এলাকাবাসী সবাই মিলে তাকে সম্মান জানাতে এ আয়োজন করি।

বিদায় বেলায় ইমাম মুনসুর রহমান জানান, জীবনের দীর্ঘ সময় যাদের ইমামতি করেছি তাদের এমন আয়োজনে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। বাকি জীবনে সবার কাছে তিনি দোয়া চান। বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইমামকে দেয়া হয় ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী। পরে তাকে ঘোড়ার গাড়ির বহরে করে রাজকীয় বিদায় দেওয়া হয়। এ সময় এলাকার মুরব্বিসহ সর্বস্তরের মানুষ কান্নাভেজা চোখে প্রিয় ইমামকে ঘোড়ার গাড়িতে করে তার বাড়িতে পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসেন।