রোজা রাখেন সপ্তাহে দুদিন, ঘুষ নেন প্রকাশ্যে

নেত্রকোণার জেলা জজ কোর্টের বেঞ্চ সহকারী সুমন মিয়া। অফিসে বসেই মামলার বাদী ও বিবাদী পক্ষের লোকজনের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেন তিনি। এ অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে সুমনের কাছে। নিজ চেয়ারে বসে তার ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও দেশ রূপান্তরের কাছে এসেছে।

তার দাবি, কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেইনি। যদি এরকম ভিডিও থেকে থাকে তাহলে কেউ ষড়যন্ত্র করে ভিডিও করেছে।

দেশ রূপান্তরের হাতে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, একজন সেবা গ্রহীতা ঘুষের টাকা দিচ্ছেন সুমন মিয়াকে। টাকার পরিমাণ সন্তোষজনক না হওয়া দর-কষাকষির করতে দেখা যায় তাকে। অবশেষে আবদার পূরণ হওয়ায় টাকা গ্রহণ করেন সুমন।

সদর কোর্টে মামলার কাজে আসা কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোর্টে আসলেই টাকা আর টাকা। টাকা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। টাকা না দিলে বছরের পর বছর ঘুরতে হয় কোর্টে। আবার একই ধরণের মামলা তাদেরকে টাকা দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। এগুলো দেখার কেউ নেই।

ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে বেঞ্চ সহকারী মো. সুমন মিয়া বলেন, আমার এরকম কোনো রেকর্ড নেই। যদি এমন ভিডিও থেকে থাকে তাহলে আমাকে ফাঁসানোর জন্য কেউ করে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

বেঞ্চ সহকারী সুমনের পক্ষ নিয়ে নেত্রকোণা জজ কোর্টের নাজির মহি উদ্দিন বলেন, সুমন খুবই ভাল মানুষ। সপ্তাহে দুদিন রোজা রাখেন। তিনি এমন কাজ করতে পারেন না। যে আপনাকে ভিডিও দিয়েছে তাকে বেঁধে পুলিশে দেন না হয় আমাদের কাছে দেন। আমরা তাকে পুলিশে দিব।