বিপিএলে বসে থাকা জোন্স ১০ ছক্কায় নিজেকে চেনালেন বিশ্বমঞ্চে

আজ রবিবার বাংলাদেশ সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্র-কানাড ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ডালাসে যুক্তরাষ্ট্র ৭ উইকেটে হারিয়েছে কানাডাকে। স্বাগতিকদের জয়ের নায়ক অ্যারন জোন্স। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি।

জোন্স তৃতীয় উইকেটে আন্দ্রেস গুসের সঙ্গে গড়েন ১৩১ রানের জুটি। জোন্স ইনিংসের প্রথম পাঁচ বলে করেছিলেন মাত্র এক রান। শেষ পর্যন্ত ৪০ বলে অপরাজিত ৯৪ রানের ইনিংসে ম্যাচ জিতিয়েছেন। তার ইনিংসে ছিল ১০টি ছক্কা। যা যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে জোন্সের ১০ ছক্কা। বিশ্বকাপে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডটা ক্রিস গেইলের। ২০১৬ তে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার পথে গেইল মেরেছিলেন ১১ ছক্কা। গেইলের ১০ ছক্কার ইনিংস আছে ২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা বিপক্ষে।

১৯৯৪ সালের ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্মগ্রহণ করা জোন্সের বাবা-মা বার্বাডোজের। বার্বাডোজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও খেলেছেন তিনি। প্রথমে ওয়েস্ট উইন্ডিজের হয়ে খেলাতেই নজর ছিল জোন্সের। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের অভিষেক ম্যাচে জয়ের নায়ক জোন্স ২০১৩ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছিলেন, 'আমারও সময় আসবে। কখনো হাল ছেড়ে দেব না।'

জোন্স বার্বাডোজের হয়ে ২০১৭ তে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা শুরু করেন। লিস্ট এ তে শুরুটা আরও এক বছর আগে। বোঝাই যাচ্ছে ২৯ বছরের জোন্স বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন হলেও ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা আছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জোন্সের অভিষেক ২০১৯ সালে টি-টোয়েন্ট দিয়েই। একই বছর দেশটির হয়ে ওয়ানডেও খেলেন তিনি। ৫০ ওভারের ফরম্যাটে আছে ১ সেঞ্চুরি ও ১০ ফিফটি। ২০২২ সালে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন অপরাজিত ১২৩ রানের ইনিংস।

পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে রংপুর রাইডার্সে যোগ দিয়েছিলেন জোন্স। তবে জোন্সকে খেলানো হয়নি কোন ম্যাচ। এমনকি পরে মেজর লিগ ক্রিকেটে সিয়াটল ওরকাসে কোন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। বিপিএলে বসে থাকা জোন্স নিজেকে চেনালেন বিশ্বকাপের মঞ্চে।

যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ২৭ টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ারে এটি জোন্সের দ্বিতীয় ফিফটি। এটি তার সর্বোচ্চ রানের ইনিংসও।

আগের ২৬ ম্যাচে ১৩ ছক্কা হাঁকানো জোন্স এবার এক ইনিংসেই মারলেন ১০ ছক্কা। ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে এসে জোন্স বলেন, 'আমার মনে হয় এটি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। দলকে জয় এনে দিতে পেরে খুশি। আমরা জানতাম আমাদের যে ব্যাটিং সামর্থ তাতে (টার্গেট) ২০০ এর নিচে রান তাড়া করা সম্ভব। আউটফিল্ড ও পিচ ভালো ছিল।'

জোন্সের ব্যাটিংয়ে ক্যারিবিয়ান পাওয়ার হিটিংয়ের ছাপ দেখা গেছে আজ বিশ্বকাপের ম্যাচে। বড় শট খেলা নিয়ে জোন্স বলেন, '(বড় শট) আসলে আমি আমার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই গেছি আর পাওয়ার হিট করতে পছন্দ করি। আমিজ জানতাম ব্যাটের মাঝে লাগলে বল বহু দূর আবে। দল চাপে থাকলেই আমার সেরাটা বের হয়।'

জোন্স বলেন, 'সত্যি বলতে, আমি যখন মেজর লিগে দল পেলাম না, শুধু এটাকে আরেক সিঁড়ি পেরিয়ে যেতে হবে আমার যাত্রায়, এভাবেই দেখেছি। অবশ্যই, আমি ড্রাফটে কোনো দলে থাকতে পারলে ভালো লাগতো কিন্তু এটা হতেই পারে। আমার মনে হয় আজকের ইনিংস সম্ভবত, এমন কিছু মানুষের চোখ খুলে দিবে যারা সত্যিই এবং যথাযথভাবে আমাকে জানেন না অথবা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেট সম্পর্কে জানেন না। সত্যিই তাদেরকে অনুধাবন করিয়ে দেবে যে আমাদের এখানে ভালো খেলোয়াড় রয়েছেন এবং আমাদের এখানে অনেক প্রতিভা রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে ইচ্ছুক নিশ্চিতভাবেই।'