বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কে এক মাসের মধ্যে দেখা দিয়েছে ফাটল। জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে সান্তাহার পৌরসভার অর্থায়নে দেড় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ করা হয়েছে। অথচ এক মাসের মধ্যেই নির্মিত ওই সড়কের ফাটলের পাশাপাশি পিচ উঠে যাচ্ছে। ফলে কাজের মান নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। এ দিকে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সড়কের ভাঙা অংশ ও উঠে যাওয়া পিচে বালি দিয়ে কোনো মতে ঢেকে দিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের রেলগেট থেকে সাইলো সড়ক পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করে সান্তাহার পৌরসভা। চলতি বছরে ২২ জানুয়ারিতে এই সড়কটির কাজ উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু। কাজটি শেষ হয় মে মাসের শুরুর দিকে। সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে সড়কের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। সামান্য বৃষ্টিতেই কোনো কোনো জাগায় কার্পেটিং উঠে এজিং ভেঙে গেছে। কাজে নিম্নমানের ইট, খোয়া, পাথর, বালু ব্যবহার করার কারণে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে গেছে —এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশের এজিং ভেঙে গেছে। ভাঙা জায়গায় বালু দিয়ে ঢেকে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অনেক জায়গায় পিচ উঠে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, অটো বা হালকা ভারী যানবাহন গেলে রাস্তার পিচ উঠে যায়। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে দেবে গেছে। সড়ক নির্মাণের এক মাসের মধ্যেই ভেঙে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা পাভেল বলেন, কয়েকদিন আগে নির্মাণ করেছে সড়ক। অথচ এখনই ভেঙে গেছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষের উচিত তদন্ত করে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া। এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা ঠিক নয়।
সান্তাহার পৌরসভার প্যানেল মেয়র জার্জিস আলম রতন বলেন, সরকার ঠিকাদারকে চমৎকার রেট দিছে। যদি ঠিকাদার তিন ভাগও কাজ করতো তাহলেও অত্যন্ত ভালো কাজ হতো, আবার ঠিকাদারও ভালো লাভ পেত। আমিও চাই ভালো কাজ হোক। কিন্ত বাস্তবেতা হয় নাই। কাজের দায়ভার দেখার দায়িত্ব পৌরসভার প্রকৌশলীর। কারণ আমি এই বিষয়ে দক্ষ না। তবে চোখে দেখেও বোঝা যায় কাজটির মান খারাপ হয়েছে। পৌর মেয়র আসার পর বিষয়টি নিয়ে আমি আলোচনা করবো।
তবে এ বিষয়ে সান্তাহার পৌরসভার প্রকৌশলী রেজাউল করিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।