শেষ সাইরেন বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই অধিনায়ক আরদুজ্জামান মুন্সিকে কাঁধে তুলে নিলেন ইয়াসিন আরাফাত। আরেক সতীর্থ দৌঁড়ে এসে অধিনায়কের হাতে তুলে দেন লাল-সবুজ পতাকা। এই সম্মানটা আরদুজ্জামানের প্রাপ্যই ছিলো। ফাইনাল শুরুর আগেই যে অবসরের ঘোষণা দেন আরদুজ্জামান। এরপর সতীর্থদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে প্রিয় অধিনায়ককে শিরোপা এনে দেওয়া।
শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। নেপালকে ৪৫-৩১ পয়েন্টে আরদুজ্জামানকে, বাংলাদেশকে শিরোপা এনে দিয়েছেন বাকী খেলোয়াড়রা। মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো শিরোপা জিতলো স্বাগতিকরা।
টানা সাত ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য এক বাংলাদেশকে দেখা গেছে। কোন দলই সেভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি বাংলাদেশকে। ফাইনালের শেষ দিকে নেপাল কিছুটা ঘুঁড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও পারেনি। প্রথমার্ধেই নেপালকে কোনঠাসা করে ফেলে স্বাগতিক বাংলাদেশ। নিজেদের হাজারো দর্শকের সামনে ভীষণ উজ্জীবিত হয়ে খেলা বাংলাদেশ প্রথমার্ধে এগিয়ে ছিল ২৪-১০ পয়েন্টে।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটে নেপালকে অল-আউট করে প্রথম লোনা অর্জন করে তারা। দ্বিতীয় লোনারও সুযোগ ছিল প্রথমার্ধে। একেবারে শেষ মিনিটে বাংলাদেশের মিজানুর রহমান নেপালের দু'জনকে অল-আউট করার সর্বোচ্চ চেষ্টাই করেছিলেন। তবে নেপালের দুই ডিফেন্ডার অসাধারণ ব্লকে রুখে দেন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা মিজানুরকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেই অবশ্য নেপালকে দ্বিতীয়বারের মতো অল-আউট করে বাংলাদেশ। এরপর অবশ্য নেপাল জোড়া চেষ্টা চালিয়েছে ম্যাচে ফেরার। দলটির সেরা রেইডার ঘনশ্যাম রোকা মাগার বেশ কয়েকবার সফল রেইডে বাংলাদেশকে খানিকটা বিপদে ফেলেছিলেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে বাংলাদেশকে তারা অল-আউটও করেছিল। তবে ততক্ষণে ব্যাবধানটা বেড়ে যায় অনেক।
শেষ পর্যন্ত ৪৫-৩১ পয়েন্টে ম্যাচটা জিতে শিরোপা উৎসবে মাতে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, এর আগের তিন আসরে বাংলাদেশ কেনিয়াকে দুবার এবং চাইনিজ তাইপেকে একবার হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল।
ম্যান অব দ্যা ফাইনাল: আরদুজ্জামান মুন্সি, বাংলাদেশ
সেরা রেইডার: মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ (৭৮)
সেরা ক্যাচার: রোমান হোসেন, বাংলাদেশ
টুর্নামেন্ট সেরা: ঘনশ্যাম রোকা মাগার, নেপাল