দেশে অন্যতম বড় অগ্নিদুর্ঘটনা নিমতলী ট্র্যাজেডি। সেই ঘটনার ১৪ বছর পার হয়েছে গতকাল সোমবার। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি দেশে আইনের শাসনের দীর্ঘসূত্রতা, বিচারহীনতা আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট উদাহরণ বলে জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গতকাল সোমবার কমিশনের উপপরিচালক মো. আজহার হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়। এদিকে বিপুলসংখ্যক মালয়েশিয়াগামী কর্মী শেষ সময়ে যেতে না পারার ঘটনায় সুয়োমোটো (স্বতঃপ্রণোদিত) অভিযোগ গ্রহণ ও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। গতকাল কমিশনের আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নিমতলী ট্র্যাজেডির বিষয়ে কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১০ সালের ৩ জুন রাতে ভয়াবহ আগুনে ঝরে যায় ১২৪টি প্রাণ। রাসায়নিকের গুদামে রক্ষিত দাহ্য পদার্থের কারণেই পুরান ঢাকার নবাব কাটরার নিমতলীতে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ হতাহতের ঘটনায় বংশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, কোনো মামলা হয়নি। এতে আগুনের ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করা যায়নি। বহুল আলোচিত এ ঘটনায় কাউকে দোষী করা যায়নি। ওই ঘটনায় নিয়মিত মামলা না হওয়ায় দায়ীদের বিচারের বিষয়টি আড়ালেই থেকে গেছে। এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি ‘টেক্সটবুক’ উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি রাখে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নিমতলী ট্র্যাজেডিতে শিল্প মন্ত্রণালয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ দায় এড়াতে পারে না। দায়ীদের বিচারের আওতায় এনে সুবিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।’
অন্যদিকে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বপ্নভঙ্গ নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন উল্লেখ করে কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালয়েশিয়ায় প্রবেশের শেষ সময়সীমা কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী মে মাসের শেষ ১০ দিনে প্রায় ৩০ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে বিমানের টিকিটের অজুহাতে মাথাপিছু অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা করে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া সংক্রান্ত অভিযোগটি তদন্তপূর্বক দায়ী প্রতিষ্ঠান ও জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া ভিসা ও ছাড়পত্র পেয়েও যথাসময়ে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক মালয়েশিয়া যেতে না পারার পেছনে দায়ী প্রতিষ্ঠান ও জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ভিসাপ্রাপ্ত শ্রমিকদের মালয়েশিয়া প্রেরণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রতারণার মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের পর নামসর্বস্ব কোম্পানিতে শ্রমিকদের পাঠানো এবং মালয়েশিয়া যাওয়ার পর কাজ না পাওয়ার বিষয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। আগামী ১০ জুলাই প্রতিবেদনের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।