ফসলের ভরা মৌসুমে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়ল

রেকর্ড ফসল উৎপাদনের মাসেই খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশে ঠেকেছে, যা গত মাসে ছিল ১০ দশমিক ২২ শতাংশ। একই সঙ্গে মে মাসে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত মাসে ছিল ৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অথচ সরকারের লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখা। সে লক্ষ্যে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিও গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু কোনো পদক্ষেপেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না নিত্যপণ্যের বাজার।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মাসিক হালনাগাদ ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেশের মূল্যস্ফীতির বেড়ে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশের অর্থ হলো, ২০২৩ সালের মে মাসে যে পণ্য ১০০ টাকায় কেনা সম্ভব হয়েছিল, ২০২৪ সালের মে মাসে তা কিনতে হয়েছে ১০৯ টাকা ৮৯ পয়সায়।

যেকোনো দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হয় দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া মুদ্রানীতির মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহার বাড়িয়েও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। গত ১২ মাসে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ, যদিও আগের বছরের একই সময়ে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

ভোক্তা মূল্যসূচকে দেখা যায়, মে মাসে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশে, এপ্রিলে যা ছিল ১০ দশমিক ২২ শতাংশ।

খাদ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি এখনো ১০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। মে মাসে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ হয়েছে, এপ্রিলে যা ছিল ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে বিকল্প পথ ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ যাতে না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বড় যারা কর দিতে পারে তাদের দিকে আরও নজর দিতে হবে। বিশেষ করে প্রত্যক্ষ করের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।

চলতি বছরের মে মাসে দেশের মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। গত বছর মে মাসে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল, যা গত ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল।

গ্রামীণ অঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলগুলোতে উচ্চতর মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব পড়েছে। শহর এলাকায় মুদ্রাস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং গ্রামীণ অঞ্চলে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।

মার্চে শহর এলাকায় খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং গ্রামীণ এলাকায় খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।

দেশের মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, তবে সে হারে মজুরি বাড়ছে না। মে মাসে গড় শ্রম মজুরি ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এটি আগের মাসেও ছিল ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। একটি দেশে মূল্যস্ফীতির তুলনায় গড় মজুরি কম হওয়ার অর্থ দেশের অর্থনীতি ভালো নেই। বাংলাদেশে গত ২৭ মাস ধরে মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি কম।