দেশে এখন ৪ লাখ যক্ষ্মা রোগী। এর মধ্যে তিন বছরে নতুন শনাক্ত হয়েছে প্রায় ১ লাখ রোগী। শনাক্তের বাইরে রয়েছে ৩১ শতাংশ রোগী। এ রোগে বছরে মারা যাচ্ছে প্রায় ৪ হাজার রোগী।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) আয়োজিত ‘যক্ষ্মা চিকিৎসা ও নির্মূলে পলিসি অ্যাডভোকেসি ও বেসরকারি খাতের যুক্তকরণ’ শীর্ষক একসভায় আইসিডিডিআর,বি এই তথ্য জানায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনটিপি) ও দ্য স্টপ টিবি পার্টনারশিপের সহযোগিতায় আইসিডিডিআর,বির সাসাকাওয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসায় সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু বলেন, ‘যক্ষ্মা রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। এই আন্দোলনে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সবার সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত দরকার।’
আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে যক্ষ্মা নির্ণয় ও চিকিৎসায় সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা অপরিহার্য। কারণ বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে সময়মতো কার্যকর যক্ষ্মা চিকিৎসা পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।’
আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আইসিডিডিআর,বি সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসক ও ফার্মেসির মালিকদের সমন্বয়ে একটা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তাদের মাধ্যমে যেসব রোগী অনেক দিন ধরে কাশিতে ভুগছে, তাদের আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত টিবি সেন্টারগুলোয় রেফার করা হয় এবং এখানে অত্যাধুনিক জিনএক্সপার্ট ব্যবহার করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে যক্ষ্মা নির্ণয় করা হয়। এভাবে প্রায় ৫০ হাজার যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করা গেছে। এই রোগীরা শনাক্তের বাইরে থাকলে তাদের মাধ্যমে অন্যদেরও সংক্রমণ ঘটত।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ও লাইন ডিরেক্টর (টিবি-এল অ্যান্ড এএসপি) ডা. মাহাফুজার রহমান সরকার, ইউএসএআইডি বাংলাদেশের ডেপুটি অফিস ডিরেক্টর মিরান্ডা বেকম্যান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। তারা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতার ওপর জোর দেন।