ঢামেকে দাদির কোল থেকে নবজাতক চুরি

প্রসব বেদনা নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন সুখী বেগম। চিকিৎসকের পরামর্শে ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হন এই প্রসূতি। ১০-১২ ঘণ্টার ব্যবধানে রাত পেরিয়ে সকাল ১০টার দিকেই জন্ম দেন ফুটফুটে দুটি মেয়েসন্তান। কয়েক ঘণ্টা না পেরোতেই যমজ সন্তানের একটি হারিয়ে ফেলেছেন সাভার থেকে আসা সুখী বেগম।

জানা যায়, গত সোমবার থেকে দালালের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। ওই দিন অন্তত সাত দালালকে আটক করে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেও হাসপাতালে দালাল ধরপাকড় চলে। তাদের উচ্ছেদে অভিযান চালায় পুলিশ। এর মধ্যেই ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে দাদির কোল থেকে নবজাতক চুরি হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষকে অবগত করার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

সুখী বেগম ও শরিফুল ইসলাম দম্পতির গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী। তারা থাকেন ঢাকার সাভারে কালামপুর এলাকায়। সেখানে শ্রমিকের কাজ করেন শরিফুল ইসলাম। তাদের আরেকটি আট বছরের ছেলে রয়েছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ওই ছেলেও ঢাকা মেডিকেলে আসে। স্বজনদের দাবি, যমজ শিশুদের দাদির সঙ্গে এক নারী সখ্য করার পর একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ওয়ার্ড থেকে নবজাতকটি চুরি করে পালিয়ে যায়।

শিশুটির বাবা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার রাতে আমার স্ত্রী প্রসব বেদনা উঠলে তাকে ঢাকা মেডিকেলের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করি। সকালে আমাদের যমজ মেয়েসন্তানের জন্ম হয়। আমার মায়ের কাছে বাচ্চাদের রেখে আমি নিচে গেলে একটি বাচ্চা চুরি হয়ে যায়।’  নবজাতক হারা এই বাবা আরও বলেন, ‘আমার আট বছরের বড় ছেলের জ্বর এসেছে। তার জন্য ওষুধ কিনতে আমি বাইরে যাই। তখন বাচ্চারা আমার মায়ের কোলে ছিল। পাশে অপরিচিত একজন নারী বসা ছিলেন। তিনি হঠাৎ বলেন আমার কোলে একটা বাচ্চা দেন। পরে আমি ওষুধ কেনার জন্য বড় ছেলেকে নিয়ে বাইরে চলে যাই। এসে দেখি ওই নারী নেই, তার কোলে দেওয়া আমার বাচ্চাও নেই।’

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালে সিসিটিভির ফুটেজ দেখার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন ও অন্য সবাইকে নিয়ে এ বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।’