গত নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার কাছে গুণে গুণে সাত গোল হজম করে মেলবোর্ন থেকে ফিরতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্ব শুরুর এই ধাক্কা সামলে বাংলাদেশ পরের ম্যাচেই ঘুড়ে দাঁড়িয়ে লেবাননকে রুখে দেয় ঘরের মাঠ কিংস অ্যারেনায়। এখানেই বৃহস্পতিবার ফের র্যাংকিংয়ে ১৬০ ধাপ এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠ বলেই মোলবোর্নের দুঃস্মৃতি ভুলিয়ে দেওয়ার কথা জোরেসোরে বলতে পারছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া।
কিংস অ্যারেনাকে হোম ভেন্যু করার পর থেকেই বদলে যাওয়া ফুটবল খেলছে বাংলাদেশ। এখানে বাছাইয়ের প্রথমপর্বের প্লে-অফে মালদ্বীপকে হারায় তারা। এছাড়া আফগানিস্তানের মতো দলকেও প্রীতি সিরিজে জিততে দেয়নি। বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্বে লেবাননকে ১-১ ড্র করতে বাধ্য করা বাংলাদেশ ফিলিস্তিনকেও চমকে দিতে নিয়েছিল গত মার্চে। তবে শেষ মুহূর্তের অসতর্কাতায় গোল হজম করে হারতে হয় তাদের। সেই হারটা এক পাশে রাখলে এই মাঠে বাংলাদেশ সত্যিই অন্যরকম। সেটাই সাহস জোগাচ্ছে অধিনায়ক জামালকে, 'কোচ যেটা বলেছেন, আমরা খুব কম সময় পেয়েছি। সব মিলিয়ে চারদিন হবে। তবে ইতিবাচক দিক হলো আমরা সবাই লিগে খেলার মধ্যে ছিলাম। সবার ফিটনেস সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে। আমাদের দর্শকদের, নিজেদের মাঠে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো খেলা উপহার দিতে।'
মেলবোর্নে চতুর্থ মিনিটেই গোল খেতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। নভেম্বরে সেখানে ছিল কণকণে ঠান্ডা। প্রতিকূল পরিস্থিতি মানিয়ে ওঠার আগেই সর্বনাশ হয়ে যায়। প্রথমার্ধেই পিছিয়ে পড়তে হয় ৪-০ ব্যবধানে। জামাল সেই হারটাকে ভুলিয়ে দিতে চাইছেন নিজেদের কন্ডিশনে সেরা ফুটবল খেলে, 'মেলবোর্নে অনেক ঠান্ডার মধ্যে আমাদের খেলতে হয়েছে। অনেকেই হ্যান্ড গ্লাভস পড়ে খেলেছে। এখানে আমরা বাড়তি সুবিধা নিয়ে খেলবো। নিজেদের মাঠে, নিজেদের পরিচিত কন্ডিশনে খেলবো। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো কাজে লাগিয়ে আমরা প্রমাণ করতে চাই যে মেলবোর্নের ৭-০ শুধুই একটা বাজে দিন ছিল।'
২৬ মার্চ আগের ম্যাচে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে নিশ্চিত ড্র হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গোল হজম করে। এরকমটা কেন হয়, সেটা একটা গোলকধাধা জামালের কাছেও, 'আসলে শেষ দিকে এসে কেন আমরা গোল হজম করি, এসব নিয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে অনেক কথা হয়। আমরা কি পুরো ৯০ মিনিট সমান্তালে খেলতে পারি না, মনযোগ কী হারিয়ে ফেলি, নাকী আমাদের ফিটনেসে ঘাটতি আছে? বারবার কেন এমন হচ্ছে, সেটা আসলে আমাদের জন্যও ভাবনার। তবে এ সব কিছু থেকেই আমরা শিখছি। নিজেদের কিভাবে শুধরাবো, কোথায় কোথায় আরও কাজ করতে হবে, এসব নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক কথা হয়। সেভাবে আমরা কাজও করি।'