সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ আজ বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হচ্ছেন না। তিনি আগামী ১৫ দিনের সময় চেয়ে দুদকে আবেদন করেছেন। গতকাল বুধবার আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি আবেদন করেন। দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গতকাল বিকেলে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেন, আমি সঠিকভাবে জানি না, তবে শুনতে পেরেছি বেনজীর আহমেদ দুদকে হাজির হওয়ার সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। আইনে সময় চাওয়ার সুযোগ আছে। সময় চাইলে দুদক ১৫ দিন সময় দিতে পারবে।
দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ মে পাঠানো নোটিসে বেনজীর আহমেদকে আগামী ৬ জুন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানকে আগামী ৯ জুন দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।
দুদকের তথ্যমতে, বেনজীর ও তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের তথ্য চেয়ে গত ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিটে চিঠি পাঠায় দুদক। পরদিন ২৫ এপ্রিল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য চেয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), সিটি করপোরেশন, ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ মে এবং ২৬ মে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজকোর্টের দুটি পৃথক আদেশে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের ৬২১ বিঘা জমি, ঢাকার চারটি ফ্ল্যাট এবং ৩৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ২৩ মে বেনজীর, তার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক স্বজনের নামে থাকা ৩৪৫ বিঘা জমি এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে থাকা ৩৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। আর ২৬ মে বেনজীরের স্ত্রী জীশান মীর্জার নামে থাকা মাদারীপুরে ২৭৬ বিঘা জমি এবং বেনজীর পরিবারের নামে থাকা গুলশানের চারটি ফ্ল্যাট জব্দ করা হয়। একই দিন বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও তিনটি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসা করার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) এবং ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও সাভারের জমি জব্দ করা হয়।
দুদকের তথ্যমতে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর কমিশন গত ১৮ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নিয়ামুল হাসান গাজী এবং জয়নাল আবেদীন।