বেনজীরের স্ত্রী সন্তানকে হাজির হতে নতুন তারিখ

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের স্ত্রী ও দুই মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের তারিখে পিছিয়ে আগামী ২৪ জুন নির্ধারণ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার তাদের দুদকে হাজির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বেনজীরের স্ত্রী জীশান মির্জা ও সন্তানরা হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করায় সংস্থা নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে। দুদকের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদের জিজ্ঞাসাবাদের তারিখও ১৫ দিন পিছিয়ে ২৩ জুন নির্ধারণ করেছে দুদক। জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ ‘বেনজীরের ঘরে আলাদিনের চেরাগ’ শিরোনামে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য তুলে ধরা হয়। দুদক অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বেনজীরকে ৬ জুন ও তার স্ত্রী জীশান মীর্জা ও দুই মেয়েকে ৯ জুন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীরের স্ত্রী-সন্তানদের আবেদন আমলে নিয়ে গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে লোক মারফতে তাদের গুলশানের বাসভবনে নতুন তারিখ দেওয়া তলবি নোটিস পাঠানো হয়।

দুদকের তথ্যমতে, গত ১৮ এপ্রিল বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নিয়ামুল হাসান গাজী এবং জয়নাল আবেদীন।

অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ ও ২৬ মে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের পৃথক দুটি আদেশে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকায় ৬২১ বিঘা জমি, ঢাকার চারটি ফ্ল্যাট এবং ৩৩ ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ২৩ মের আদেশে বেনজীর, তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক স্বজনের নামে থাকা ৩৪৫ বিঘা জমি জব্দ করা হয়। একই দিন বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে থাকা ৩৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। এরপর গত ২৬ মের আদেশে বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জীশান মীর্জার নামে থাকা মাদারীপুরে ২৭৬ বিঘা জমি এবং বেনজীর পরিবারের নামে থাকা গুলশানের চারটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেয়। একই দিন বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও তিনটি বিও হিসাব (শেয়ার ব্যবসা করার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) এবং ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও সাভারের জমি অবরুদ্ধ করা হয়।

বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর সম্পদের রিসিভার নিয়োগ করেছে আদালত। আদেশে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়োগ করা রিসিভারকে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় আদালত।