ইসরায়েলের মিসাইল হামলায় হিজবুল্লাহর এক শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের হামলায় নিহত কমান্ডারদের মধ্যে উনি সবচেয়ে সিনিয়র বলে জানা গেছে।
লেবাননে চালানো এই হামলায় কমান্ডারের সাথে আরও অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময়, মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের জুয়াইয়া শহরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় তালেব আবদুল্লাহ নামের সিনিয়র হিজবুল্লাহ কমান্ডার নিহত হন। তিনি আবু তালেব নামেও পরিচিত। তার সাথে সে সময় আরও তিনজন নিহত হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে যে সম্ভবত তারা একটি বৈঠক করছিলেন, আর সেই সময়েই হামলা চালায় ইসরায়েল।
সুত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, আবদুল্লাহ লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের হিজবুল্লাহর কমান্ডার ছিলেন। তিনি গত জানুয়ারিতে নিহত আরেক সিনিয়র হিজবুল্লাহ কমান্ডার উইনসাম আল তাউইলের সিনিয়র ছিলেন।
এদিকে সিনিয়র কমান্ডারকে হত্যার প্রতিশোধে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ভারী হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ।
টেলিগ্রামের এক পোস্টে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী লেবানন থেকে বড় ধরনের রকেট হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানায় যে, উত্তর ইসরায়েলে লেবানন থেকে প্রায় ৯০টির মত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
কিছু ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং অন্যগুলো উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হেনেছে। অনেক স্থানে আগুন ছড়িয়ে পরার খবর পাওয়া গেছে বলে টেলিগ্রামে জানানো হয়।
এক প্রতিবেদনে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে যে, হিজবুল্লাহর রকেট এবং ড্রোন হামলার কারণে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের আপার গ্যালিলি এবং গোলান হাইটসে বেশ কয়েকটি স্থানে বড় ধরনের আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
গত বছরের সাত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলের সাথে লেবাননের সীমান্তে সংঘর্ষের ফলে ইসরায়েলি ১০ জন বেসামরিক লোকের মৃত্যু হয়েছে, সেইসাথে ১৫ জন আইডিএফ সৈন্য নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর ৩৪১ সদস্য নিহত হয়েছে যাদের বেশিরভাগই লেবাননে এবং অল্প কয়েকজন সিরিয়াতে নিহত হয়েছেন। এছাড়া লেবাননে অন্যান্য গোষ্ঠীর আরও ৬২ জন ও এবং কয়েক ডজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে।
গাজায় তেলআবিবের আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই এমন হামলা-পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত।