ইউরোপে বাড়ছে ডেঙ্গু মশার বিস্তার

  • ইইউ এর ১৩টি দেশে ডেঙ্গুবাহী মশার বিস্তার বাড়ছে, যা ইউরোপজুড়ে ডেঙ্গু বৃদ্ধি করছে
  • গত বছর ফ্রান্স, ইতালি এবং স্পেনের বহু মানুষ মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন
আপডেট : ১২ জুন ২০২৪, ০১:১১ পিএম

ফ্রান্স, স্পেন এবং গ্রীসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৩টি দেশে ডেঙ্গুবাহী এক প্রজাতির মশার সন্ধান পাওয়া গেছে, যা ইউরোপজুড়ে ডেঙ্গু বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে বলে দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

টাইগার মসকিউটো নামের এই বিশেষ প্রজাতির মশার বংশ বিস্তারের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি)।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের কারণে ইউরোপীয় দেশগুলোতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলবে। ডেঙ্গু বিস্তার রোধে বাগান বা বারান্দা থেকে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা এবং রাতে মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জনসাধারণকে।

অন্যদিকে প্যারিসের উত্তরাঞ্চলে আগামী জুলাই মাসের শেষের দিকে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হবে। সেখানকার কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই এই প্রজাতির মশার বিস্তার সম্পর্কে নজর রাখছে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।

গত কয়েক বছরে ইউরোপে ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। গত বছর ফ্রান্স, ইতালি এবং স্পেনের বহু মানুষ মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

এডিস অ্যালবোপিকটাস বা এশিয়ান টাইগার মসকিউটো নামের বিশেষ প্রজাতির মশাটিকে বিশ্বের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক প্রজাতির মশা বলে মনে করা হয়। বর্তমানে তারা আবাসস্থল দক্ষিণ ইউরোপীয় অঞ্চলগুলো থেকে পুরো ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

টাইগার মসকিউটো সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর, চিকুনগুনিয়া এবং জিকা ভাইরাসের মতো রোগ ছড়ায় যা এখন পর্যন্ত আফ্রিকা, এশিয়া এবং আমেরিকার কিছু অংশে রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপেও ডেঙ্গুর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। গত বছর ফ্রান্সে একাধিক সংক্রমণ, ইতালিতে চারটি এবং স্পেনে দুটি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে ভ্রমণ করতে গিয়ে লোকজন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছর ইউরোপে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করতে গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তবে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। গত বছর ইউরোপে ১৩০ জন স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে সংক্রমিত হন। এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৭১ জন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত