৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা

করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রণোদনা প্যাকেজ এবং ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অর্থে গঠিত ‘রিভলভিং তহবিল’ থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আরও ৪৫০ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। একজন উদ্যোক্তা সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। তবে মূলধনী যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।

এ লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার রাতে ২৩টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সোনালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, দি প্রিমিয়ার ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স ও ইউনাইটেড ফাইন্যান্স। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।

এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অংশীদার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে জামানতবিহীন ঋণ বিতরণের বিষয়ে উৎসাহিত করা হবে। তবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে কোনো জামানত গ্রহণ করা হবে না। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা হবে সর্বোচ্চ ৪ বছর। গ্রাহক-ব্যাংক সম্পর্কের ভিত্তিতে ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৪৮টি মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। মোট ঋণের ৩০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে এবং ১০ শতাংশ এসএমই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। নারী-উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে মোট ঋণের ৫০ ভাগ উৎপাদন ও সেবা খাতে এবং বাকি ৫০ ভাগ ভ্যালুচেইন ও অন্যান্য খাতে বিতরণ করতে হবে। আর পুরুষ উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে মোট ঋণের ৫০ ভাগ উৎপাদন খাতে, ২৫ ভাগ সেবা খাতে এবং ২৫ ভ্যালুচেইন ও অন্যান্য খাতে বিতরণ করতে হবে।

এসএমই ফাউন্ডেশন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম নিয়মিতভাবে মনিটরিং করবে। ঋণ বিতরণের পর এসএমই ফাউন্ডেশনের নিজস্ব পদ্ধতি ও লোকবল দ্বারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে চুক্তি অনুযায়ী এবং সঠিক উদ্যোক্তার অনুকূলে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে কি না তা যাচাই ও নিশ্চিত করবে। তবে অনুৎপাদনশীল খাত যেমন মুদি দোকান, ওষুধ বিক্রেতা, হার্ডওয়্যার বিক্রেতা এবং পরিবেশ দূষণ ঘটায় এমন ব্যবসার অনুকূলে এ কর্মসূচির আওতায় ঋণ প্রদান করা যাবে না।

ঋণপ্রাপ্তির জন্য যোগ্যতার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভুক্ত এসএমই সাব-সেক্টর, ক্লাস্টারের উদ্যোক্তা এবং ভ্যালু চেইনের আওতাভুক্ত উদ্যোক্তা; রপ্তানি উপযোগী পণ্য এবং আমদানি বিকল্প পণ্য প্রস্তুতকারী উদ্যোক্তা; আইসিটি ও প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীল ব্যবসায়ে যুক্ত তরুণ/নতুন উদ্যোক্তা যারা এখনো ব্যাংক থেকে ঋণ পাননি; পশ্চাৎপদ অঞ্চল, উপজাতীয় অঞ্চল, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং তৃতীয় লিঙ্গের উদ্যোক্তা; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ট্রেডবডি, এসএমই অ্যাসোসিয়েশন, নারী উদ্যোক্তা সংগঠন, নাসিব, উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসহ উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সুপারিশকৃত উদ্যোক্তাদের বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় ১০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২ হাজার ১৮৬ জন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার মধ্যে প্রায় ১২২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়, যাদের ২৫ শতাংশ নারী এবং ৭৫ শতাংশ পুরুষ উদ্যোক্তা। করোনা মহামারীর বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৩০০ কোটি টাকা ৩ হাজার ১০৮ জন উদ্যোক্তার অনুকূলে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৭৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা বা ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা এবং ২২১ কোটি ২৮ লাখ টাকা বা ৭৩ দশমিক ৭১ শতাংশ ঋণ পেয়েছেন পুরুষ উদ্যোক্তারা।