ব্যাংকঋণ পরিশোধের নোটিস পেয়ে অবাক ১২টি পরিবার। তাদের বাপ-দাদাদের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে ২০১৪-১৫ সালে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন অঙ্কের ঋণ। সেই ঋণ পরিশোধ না করায় ২০২০ সালে ব্যাংক থেকে নোটিস দেওয়া হয়। অথচ তাদের মধ্যে অনেকে মারা গেছেন ৫০ থেকে ৭০ বছর আগে। বাকিরা জীবিত থাকলেও ব্যাংকের কাছেও যাননি কোনো দিন। চার বছর ধরে তারা ব্যাংকে দৌড়ঝাঁপ করেও এ সমস্যার সমাধান করতে না পেরে অবশেষে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের শরণাপন্ন হন। এমন ঘটনা কৃষি ব্যাংকের পটুয়াখালীর বাউফলের কেশবপুর শাখায়। ভুক্তভোগী সবার বাড়ি বাউফলের সূর্য্যমনি ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, নোটিস পাওয়ার পর ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন তাদের বাপ-দাদাদের নামে ঋণ নেওয়া হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে জবেদ আলী ১৯৬০ সালে, হযরত আলী ১৯৬৫, রহমত আলী ১৯৬৬ ও জয়নাল আবেদীন হাওলাদার ১৯৬৯ সালে মারা গেছেন। অথচ ব্যাংক বলছে তারা ২০১৪ সালে ঋণ নিয়েছেন। পরে জানা যায়, তাদের নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির ছবি ও আইডি কার্ড দিয়ে ঋণ নেওয়া হয়েছে।
ওই গ্রামের বাবুল মৃধার (৪৪) নামে ১৭ হাজার টাকা ও তার ছোট ভাই ফারুক হোসেন মৃধার (৪২) নামে ৫৫ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাবুল মৃধার স্ত্রী হামিদা বেগম অভিযোগ করেন, ‘২০১৪ সালে আমাদের ঋণ দেওয়ার কথা বলে ফাইলে সই-স্বাক্ষর নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পরে টাকা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। কিন্তু ২০২০ সালে আমাদের নামে নোটিস আসে।’
জবেদ আলীর নাতনি মোমেলা বেগম বলেন, ‘আমার বয়স ৬৫ বছর। আমার জন্মের আগে দাদা মারা গেছেন। দাদার নামে নোটিস পেয়ে আমরা আশ্চর্য হয়েছি।’
জয়নাল হাওলাদারের ছেলে আফসের উদ্দিন হাওলাদার (৭০) বলেন, ‘আমার বাবার মৃত্যুর সময় ব্যাংকের শাখাই ছিল না।’
কৃষি ব্যাংকের কেশবপুর শাখার ব্যবস্থাপক হুসাইন মো. তাইফ আলম বলেন, ‘চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আমি এ শাখায় যোগদান করি। গত মঙ্গলবার ভুক্তভোগী পরিবারের কয়েকজন বিষয়টি জানিয়েছেন। ঋণগুলো ২০১৪ সালে অনুমোদন করা। ইতিমধ্যে আমি প্রাথমিক রিপোর্ট আমাদের মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ে প্রেরণ করেছি।’
ঋণ বিতরণকালীন শাখা ব্যবস্থাপক নুর হোসেন ২০১৬ সালে এলপিআর এবং ২০১৮ সালে সম্পূর্ণ অবসরে যান। তিনি জানান, ঋণ সম্পর্কে কিছু মনে নেই তার। এ বিষয়ে মাঠ কর্মকর্তাকে দায়ী করেন তিনি।
মাঠ কর্মকর্তা সফিউর রহমান বলেন, ‘আমি ২০১৪ সালে ওই শাখা থেকে বদলি হয়ে অন্য শাখায় চলে যাই। ঋণে সমস্যা হলে গত ১০ বছর আমাকে কেন অবহিত করা হয়নি।’
কৃষি ব্যাংকের বরিশাল বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক গোলাম মাহাবুব বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর গত বুধবার ওই শাখা পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’