বাবাকে বাঁচানোর লড়াই

বাবা, মা, ছোটবোন আর আমি চারজনের ছোটখাটো সুখের সংসার ছিল আমাদের। বাবা বাংলাবাজারের বেশ পরিচিত লেখক, সম্পাদক। তার অল্প আয়ে আমাদের বেশ চলে যাচ্ছিল। মা চেষ্টা করতেন সেই অল্প আয়েই আমাকে এবং আমার বোনকে ভালো রাখতে, পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু জোগাতে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি হলাম বাবা ও মা খুব খুশি হয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের সুখের সংসারে হঠাৎ দুঃখ নেমে আসে। আমার মা মারা যান। এরপর বাবা আর ছোটবোনকে নিয়েই আমার সংসার। সেই বাবা, আমার একমাত্র অবলম্বন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডাক্তার দেখালে তিনি জানান পেসমেকার লাগানো ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু এত টাকা আমাদের কাছে ছিল না। অগত্যা ফেসবুকে পোস্ট দেই, ‘আব্বুর হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। অক্সিজেন মিটার ৩৫%-এ নেমে আসছে। জরুরি ভর্তি করাতে হবে। ডাক্তার বলছেন পেসমেকার লাগাতে হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। কিন্তু এই মুহূর্তে পেসমেকার লাগানোর মতো এত টাকা আমার কাছে নেই। তাই আমি আমার একটা কিডনি বিক্রি করে দিতে চাচ্ছি। ঢাকায় কোথায় কিডনি বিক্রি হয়? এক কিডনি নিয়ে বেঁচে থাকতে পারব, আব্বুকেও বাঁচাতে পারব।’

আমার ভাগ্য অত্যন্ত ভালো যে, আমাকে কিডনি বিক্রি করতে হয়নি। আমার বন্ধু, সহপাঠী, বড় ভাইবোন, শিক্ষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের মানুষেরা মাত্র তিন দিনের মধ্যে এই টাকা সংগ্রহ করে আমার হাতে তুলে দেন। আমিও তার পরের দিনই বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করাই এবং পেসমেকার বসানোতে বাবা সুস্থ হয়ে ওঠেন আগের থেকে।

বাবাকে বাঁচানোর এই লড়াইয়ে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের সবার কাছে এই বাবা দিবসে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যতবার বাবার মুখে হাসি দেখি ততবার আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতায় ভরে যায় আমার মন।

শিক্ষার্থী,

সংগীত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়