বাবা বটবৃক্ষের ছায়ার মতো...

বাবাদের জীবনযাপন, আত্মত্যাগ দেখে আমার মনে হয় এত সংগ্রামী মানুষও হয়! এটা আমি বাবাকে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না। বাবা সম্পর্কে কোনটা ছেড়ে কোনটা লিখব! আমার বাবা আমাকে আমার মতো করে বুঝেছেন। লেখালেখি, বইপড়া, গান গাওয়া ছাড়াও এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস, যা কিছু আছে সবকিছুতেই বাবা পারদর্শী। তিনি চান আমিও যেন তার মতো হয়ে ওঠি। নিজের বাবা বলে বলছি না, সত্যিই বাবার লেখার হাত খুব ভালো। ঝরঝরে বাংলা লেখায় বাবার পারঙ্গমতা আমাকে বিস্মিত করে। চমৎকার ইংরেজি জানেন।

প্রতিদিন শিক্ষকতা, সাংবাদিকতার পাশাপাশি বই পড়া (এখনো প্রচুর বই পড়েন) সবকিছু সামলিয়ে ২-৩ বার আমার খোঁজখবর নেওয়া এতকিছু কীভাবে করেন ভাবলেই অবাক হয়ে যাই! তিনি এমন অসাধারণ মেধাবী ও মুক্তমনা মানুষ যার সঙ্গে অনায়াসে আমি সবকিছু শেয়ার করতে পারি, পরামর্শ নিতে পারি যে কোনো বিষয়ে। আমাকে আজ পর্যন্ত কোনো কিছুতে বাধা দেননি। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় যখন আমি আমার ইউনিটে ২৮তম পজিশন পেয়ে পাস করলাম তখন সবচেয়ে খুশি হয়েছিলেন বাবা। খুশিতে কেঁদে দিয়েছিলেন আমাকে জড়িয়ে ধরে। আমার বাবা আমার গর্ব। বাবা স্বপ্ন দেখেন আমাকে নিয়ে। স্বপ্ন দেখানও। স্বপ্ন পূরণের পথেই হাঁটছি।

পৃথিবীর সব বাবারা দীর্ঘজীবী হোক, তাদের স্বপ্ন-আকাক্সক্ষা পূরণ হোক, বাবা দিবসে এই কামনা।

শিক্ষার্থী, প্রথম বর্ষ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়