‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার/পথ দেব পাড়ি তোমার’ গানটির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। ঈদ আসলেই এই গানটির জনপ্রিয়তা বাড়ে। মানুষ আপনজনের কাছে ফেরার সময় গানটি নিজেদের ফেসবুকে শেয়ার করেন। আগামীকাল দেশে পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হবে। তাই সড়ক, রেল , নৌ ও বিমানপথে মানুষ গ্রামে ফিরছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই ট্রেনের ছাদ ও ট্রাকে বাড়িতে ফিরছেন।
পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে শত কষ্ট মেনে নিচ্ছেন। কিন্তু প্রবাসীরা ইচ্ছে থাকলেও বাড়িতে ফিরতে পারেন না। তাই তাদের স্বপ্নেরা বাড়ি যায় না। জীবনের তাগিদে দেশের প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ প্রবাসে থাকেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে চাঙ্গা হচ্ছে আমাদের অর্থনীতি। এই প্রবাসীরা বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে দূরে থাকেন। এই ঈদেও প্রবাসীরা স্বজনদের থেকে দূরে থাকছেন। প্রবাসে থাকা এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের।
সৌদি আরবের জিজান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হোসাইন লিটন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইচ্ছা থাকলেও বাড়িতে ফিরতে পারিনা। আত্মীয়-স্বজনদের ছাড়াই দূর প্রবাসে বসে ঈদ করতে হয়। ঈদের দিন মনটা খুবই খারাপ থাকে। কিন্তু ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়।’
দিনাজপুরের শমসের আলী। দুই বছর আগে বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান ও বাবা-মাকে রেখে সৌদি আরবে গেছেন। এবার ঈদুল আযহায় কোরবানি পশু কেনার জন্য বাড়িতে টাকা পাঠিয়েছেন। কিন্তু নিজে দেশে ফিরতে পারছেন না। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের দিন মায়ের হাতের রান্না খুবই মিস করি। বাবার সঙ্গে ঈদগায়ে যাওয়ার স্মৃতি মনে পড়ে। বাড়িতে থাকলেও নিজের সন্তানকে নিয়ে বাবার সঙ্গে ঈদগাহে যেতাম। কিন্তু তা সম্ভব হয়না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে যেতে না পারলেও দূর থেকে মোবাইলে কথা বলে ঈদের দিন কাটবে। এটাই এখন ভালো থাকার সম্বল।’
এদিকে তুরস্কের ইগদির বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করছেন রংপুরের আব্দুল আলিম। তিনিও ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসতে পারেননি। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদ আসলে ঢাকা থেকে ট্রেনে বাড়ি ফেরার স্মৃতি মনে পড়ে। বাড়িতে মায়ের হাতের গরুর মাংস ও ভাত খেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু দূর প্রবাসে তা সম্ভব হয়না।’
তাদের মতো প্রবাসে থাকা প্রত্যেকের ঈদ কাটে এভাবেই। তারা হয়তো স্বপ্ন দেখেন বাড়িতে ফেরার কিন্তু বাস্তবতা তাদের বাড়িতে ফিরতে দেয়না। তাই তাদের স্বপ্ন বাড়িতে যায় না...