কোরবানির জন্য ৬টি পশু নির্দিষ্ট। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। এগুলো ব্যতীত অন্যান্য পশু দিয়ে কোরবানি দেওয়া যাবে না। ছাগল ও ভেড়ার জন্য ১ বছর, গরু ও মহিষের জন্য ২ বছর এবং উটের জন্য ৫ বছর বয়স হওয়া আবশ্যক। অবশ্য ভেড়া যদি মোটাতাজা হয়, যা দেখতে ১ বছরের মনে হয়, তবে সেটি দিয়েও কোরবানি জায়েজ হবে।
উপরোল্লিখিত কোনো পশুর কান বা দৃষ্টিশক্তি এক-তৃতীয়াংশের কম নষ্ট বা কাটা পড়লে সেটি কোরবানি দেওয়া জায়েজ। এক-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি হলে জায়েজ নয়। যে পশুর লেজ অর্ধেকের বেশি আছে, সেটি কোরবানি করতে কোনো অসুবিধা নেই। এর বিপরীত হলে জায়েজ নয়। যে পশুর শিং মোটেই ওঠেনি সেটি কোরবানি দেওয়া জায়েজ। যদি শিং গোড়ায় ভেঙে যায় এবং এর ক্ষতি মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে, তবে সেটি দিয়ে কোরবানি আদায় হবে না। যে পশুর দাঁত মোটেই ওঠেনি বা অর্ধেক পড়ে গেছে সেটি কোরবানি দেওয়া যাবে না। যে পশুর জন্মগতভাবে কান নেই সেটি কোরবানি দেওয়া যাবে না। যে পশুর জিহ্বা এ পরিমাণ কাটা যে, ঘাস-পাতা খেতে পারে না, তা কোরবানি দেওয়া যাবে না। যে পশু তিন পা দিয়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা রাখতে পারে কিন্তু ওই পা দিয়ে চলতে পারে না, সেটি কোরবানি দেওয়া যাবে না। যে পশুর স্তন কাটা বা জখম হওয়ার কারণে বাচ্চাকে দুধ পান করাতে পারে না, সেটি দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়। জেনেশুনে চুরিকৃত পশু ক্রয় করা এবং তা কোরবানি করা জায়েজ নয়। হিজড়া পশু কোরবানি করা জায়েজ নয়। বন্ধ্যা পশু কোরবানি করা জায়েজ। গর্ভবতী পশু কোরবানি করা মাকরুহ। ত্রুটিহীন পশু ক্রয় করার পর সেটিতে যদি এমন কোনো ত্রুটি জন্ম নেয়, যা কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রতিবন্ধক, তবে নেসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী ব্যক্তির জন্য এরূপ পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়, দরিদ্র ব্যক্তির জন্য বৈধ।