নরসিংদীর চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলি ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে পুলিশসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে সাতজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন নরসিংদী মডেল থানার এসআই জয় বণিক (৩১), আলিপুর গ্রামের আবুল মিয়ার স্ত্রী জামিনা বেগম (৭০), ফারুক মিয়া (৩৫), ফরহাদ (৩০), দাউদ মনা (৪০), ফারুক মিয়া (৪০) ও ফরহাদ (৩৫)। তারা সবাই শাহজাহান মনার সমর্থক।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নজরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইসমাইল কোম্পানী ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মনার বিরোধ চলে আসছে। গতকাল বেলা ১১টায় ইসমাইল কোম্পানীর লোকজন শাহজাহান মনার লোকজনের ওপর টেঁটাসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষে গুলি ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে দুই পক্ষের ১০ জন আহত হন।
তাদের মধ্যে শাহজাহান মনার সমর্থক দাউদ মনা, সাইফুল ইসলাম, ফারুক মিয়া ও স্থানীয় দোকানি জামিনা বেগম গুলিবিদ্ধ ও ফারুক মিয়া, ফরহাদ টেঁটাবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে নরসিংদী মডেল থানার এসআই জয় বণিক গুলিবিদ্ধ হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও মাধবদীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল বাশার কমল বলেন, পুলিশের একজন এসআইসহ গুলিতে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এসআই জয় বণিক বলেন, ‘দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় একটি গুলি এসে আমার হাতে লাগে। পরে আমি সদর হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছি।’
নজরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছে। আমরা একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেছি। তারপরও তারা বারবার সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। আজও তারা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে পুলিশসহ অনেকে আহত হয়েছে। আমরা এলাকার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে কাজ করছি।’ এ ব্যাপারে জানতে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শহীদুল ইসলাম সোহাগ ও নরসিংদী মডেল থানার ওসি তানভীর আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।