খোলা বাজার থেকে ৪ কার্গো এলএনজির ক্রয়াদেশ বাতিল

ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খোলা বাজার (স্পট মার্কেট) থেকে কেনা চার কার্গো এলএনজি সরবরাহ আদেশ বাতিল করেছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

রিমালের আঘাতে গত ২৬ মে থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিটের ওই ভাসমান টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। এতে বাসাবাড়ি, শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। চলমান এই সংকটে আরও কিছুদিন ভুগতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেহেতু টার্মিনালটি এখন ব্যবহার করা যাচ্ছে না, তাই নতুন করে খোলা বাজার থেকে এলএনজি আমদানি করে তা ব্যবহারের সুযোগ নেই।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি মেরামতের জন্য ইতিমধ্যে তা সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৪ জুলাই এটি মেরামত শেষে দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় খোলা বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) না কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি কার্গো কেনার জন্য সরকারের মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হলেও তা পিছিয়ে যেতে পারে। এখন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় পাঁচ-ছয়টি কার্গো কেনা হচ্ছে। সেগুলো দিয়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রমতে, সিঙ্গাপুরের গানভরের কাছ থেকে তিনটি এবং কাতার এনার্জির কাছ থেকে একটিসহ ওই চারটি স্পট কার্গো কেনার চুক্তি করেছিল পেট্রোবাংলা। ক্রয়াদেশ বাতিল করা ওই চারটি কার্গোর মধ্যে দুটির দর ছিল ১০ ডলারের নিচে এবং দুটি এর চেয়ে বেশি। বর্তমানে স্পট মার্কেটে দাম ১৩ ডলারের আশপাশে থাকায় এসব কোম্পানি বাংলাদেশের ক্রয়াদেশ বাতিলে আপত্তি জানায়নি।

মে মাসের শেষের দিকে এবং ৭ থেকে ১১ জুনের মধ্যে গানভরের কার্গোগুলো এবং ১৯ থেকে ২১ জুনের মধ্যে কাতার এনার্জির কার্গো সরবরাহ করার কথা ছিল।

ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরে এলএনজি সরবরাহে দৈবদুর্ঘটনা ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে পেট্রোবাংলাকে।

বাংলাদেশের দুটি ভাসমান এলএনজি আমদানি টার্মিনালের মধ্যে সামিটের একটি। এটির দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন ক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০১৯ সালের এপ্রিলে এই টার্মিনালটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। গত বছর ৫২ লাখ টন জ্বালানি আমদানি করা হয়েছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত ২৬ লাখ টন এলএনজি আমদানি করেছে। মে মাসে রেকর্ড পরিমাণ ছয় লাখ টন এলএনজি কিনেছে।