বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমায় সিলেট অঞ্চলের নদনদীর পানি উজানে কিছুটা কমেছে। তবে উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ভাটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বাড়িঘরে টিকতে না পেরে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে মানুষ। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার চিত্র প্রায় একই। বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলাতেও। এই চার জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে প্রায় ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। বন্যার কারণে সিলেট বিভাগের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও সিরাজগঞ্জসহ দেশের উত্তরের প্রায় সব জেলার প্রধান প্রধান নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ব্রহ্মপুত্র নদ এবং যমুনা, ঘাঘট, তিস্তা, ধরলা ও করতোয়া নদীর পানি বেড়েছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এর মধ্যে শুধু তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়ার কারণে নদনদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে এসব এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা। ডুবে গেছে সবজির ক্ষেতসহ বিভিন্ন উঠতি ফসল। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এসব জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সিলেট জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হওয়ায় নদী, হাওরে পানি বৃদ্ধির হারও কিছুটা কমেছে। সিলেট নগরীর কিছু এলাকার পানি নামলেও শাহজালাল উপশহরসহ সুরমা নদীর পাড়ঘেঁষা পাড়া-মহল্লা এখনো জলমগ্ন। এ ছাড়া সিলেট সদর উপজেলা, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ উপজেলার নিম্নাঞ্চলে গতকালও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। উপজেলাগুলোর বন্যাকবলিতরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষেতের ফসল তলিয়ে গেছে। চাষের মাছ ভেসে গেছে। অনেকের বাড়ির আসবাবপত্র, ধান-চাল ভিজে নষ্ট হয়েছে। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজনকে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পানিবন্দি লোকজন তেমন ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না।
গতকাল বিকেলে সিলেট জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি কিছুটা কমলেও সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ছয়টি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। বাড়িঘরে টিকতে না পেরে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে মানুষ। জেলা প্রশাসনের হিসাবমতে, সিলেট জেলায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাড়িঘরে পানি উঠে পড়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েছে প্রায় ২২ হাজার মানুষ।
গতকাল বিকেলে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর, ছড়ারপাড়, শেখঘাট, তালতলা, জামতলা, মাছুদীঘির পাড়, মেন্দিবাগ, তোপখানা, বেতেরবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কিছু এলাকার পানি নেমে গেছে। বুধবার যেখানে কোমর পর্যন্ত পানি ছিল সেখানে কিছুটা কমে হাঁটুসমান পানি হয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা জানান, পানি কিছুটা কমলেও তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে আছেন।
সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলায় সুরমা ও লোভা নদীর পানি কিছুটা কমলেও গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এখনো সুরমা ডাইকের ১৮টি ভাঙন দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। প্রত্যন্ত এলাকায় কোথাও বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে এবং ৮ নম্বর ঝিঙ্গাবাড়ী ও ৯ নম্বর রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে।
উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। প্রত্যন্ত এলাকার লোকজন যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় নৌকা নিয়ে যাতায়াত করছে।
ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পানিবন্দি এলাকার লোকজনদের। টানা বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে এবং বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করায় বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষরা কর্ম হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বন্যা পরিস্থিতি দেখতে গতকাল সিলেটে আসেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি সিলেট নগরীর টুকেরবাজার এলাকার শাদীখাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সিলেট নগরীকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে সুরমা নদী ড্রেজিং করা হবে।
অতি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলা। পানিবন্দি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ। তবে গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমায় কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। এদিন দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় ধীর ধীরে কমছে পানি। অনেক সড়কে গত বুধবারও হাঁটুসমান পানি থাকলেও গতকাল তা এক থেকে দুই ইঞ্চিতে নেমে আসে।
প্রায় পাঁচ দিন পর সুনামগঞ্জে দেখা মিলেছে সূর্যের। গতকাল বিকেল ৪টার দিকে সূর্য উঠতে দেখা যায়। রোদের তাপ কম থাকলেও সূর্যের দেখা মেলায় জনমনে বন্যা আতঙ্ক কিছুটা কমেছে।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমায় সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। গত বুধবার সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও গতকাল তা নেমে দাঁড়ায় ২৪ সেমিন্টিমিটারে। অবশ্য দিরাই পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এ ছাড়া ছাতকের দিকে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার ৫৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪২৯ জন বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ও বিরামপুরে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। পরে তিনি সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই বন্যার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যেন ভালোভাবে বসবাস করতে পারে সেজন্য কী কী করা দরকার তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। সুনামগঞ্জে আমাদের ২০টি নদী খনন প্রকল্প রয়েছে, নদীগুলো খনন করলে নদীর ধারণক্ষমতা বাড়বে। আর গ্রামগুলো কম প্লাবিত হবে। কিন্তু সুনামগঞ্জ হাওর এলাকা, পানি আসবে, প্লাবিত হবে, এ ক্ষেত্রে কিছু করার নেই।’
মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে শিশু ও কিশোরের মৃত্যু : মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশু ও এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে সদর উপজেলার চাঁদনীঘাটল ইউনিয়নের শ্যামেরকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো পশ্চিম শ্যামেরকোনা গ্রামের পচন মিয়ার ছেলে ছাদি মিয়া (৮) ও একই গ্রামের জমির মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (১৭)। চাঁদনীঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার উদ্দিন বলেন, ‘ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে শ্যামেরকোনা গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের রাস্তাঘাট, ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। দুপুরে পানিতে খেলতে নেমে সাঁতার না জানার কারণে ওই শিশু ও কিশোর দুজনই পানিতে ডুবে যায়। প্রতিবেশীরা দেখে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।’
হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। জেলার নদনদীর পানি কমেছে বলে জানিয়েছে পাউবো। তবে খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। গত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে।
নবীগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও মাধবপুর, বানিয়াচং ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর জানিয়েছে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি ইউনিয়নে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে যাওযায় বিস্তৃীর্ণ এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। ফলে আউশ ধানের জমি ছাড়াও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ দীঘলবাগ, আউশকান্দি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামের ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা ও কলমাকান্দার শতাধিক গ্রামের নিম্নাঞ্চলের লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। জেলার মোহনগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে তোরা মনি (৮) নামে এক শিশু মারা গেছে। গতকাল সকালে পানিতে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বুধবার বিকেলে বাড়ির সামনে বন্যার পানিতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশুটি।
উত্তরের নদনদীতে বাড়ছে পানি : থেমে থেমে বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা ঢলে গাইবান্ধায় সব নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে এ তিন নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গাইবান্ধা পাউবোর নিয়ন্ত্রণকক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার পানি গতকাল সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (গত বুধবার বিকেল ৩টা থেকে গতকাল বিকেল ৩টা) তিস্তার পানি ৪১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৩৪ সেন্টিমিটার এবং করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার বাড়ে।
গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
কুড়িগ্রামে তিস্তা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীসহ ১৬টি নদীর পানি বেড়েই চলছে। গতকাল দুপুরে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ও তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
পানি বাড়ার কারণে নদনদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়েছে এসব এলাকার গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন কাঁচা সড়ক। ডুবে গেছে সবজিক্ষেতসহ বিভিন্ন উঠতি ফসল।
সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে। দুদিন ধরে আশঙ্কাজনক হারে পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের অনেক স্থানে বন্যা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট থেকে মাঝারি আকারের বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে সিরাজগঞ্জ পাউবো। গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৭৭ মিটার। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ সেন্টিমিটার বেড়ে পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ১৩ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল (বিপদসীমা ১২ দশমিক ৯০ মিটার)। পানি বৃদ্ধি পেয়ে যমুনা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে, তলিয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের ফসলি জমি।
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে এখনো পানি রয়েছে। পানি কিছু এলাকা থেকে নামতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। ধরলা নদীর ভাঙনে বড়বাড়ী ইউনিয়নে তিনটি বাড়ি নদীতে চলে গেছে।
টানা ভারী বর্ষণ এবং উজানের ঢলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বুড়িতিস্তা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্থিতিশীল। সুরমা নদীর পানি ইতিমধ্যে কমেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি কমে আসবে। কারণ ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমে আসছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর থেকে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।’
আগামী সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে : আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে তা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া মাসের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। সারা দেশেই বৃষ্টিপাত হবে। তবে সিলেট এলাকায় অধিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক এবং সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যে প্রতিবেদনটি তৈরি