নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আহসান কবীর হালদারকে বাদ দিয়ে প্রায় পৌনে ৩ বছর পর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় ফুঁসে উঠেছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার ঢাকা-টঙ্গীবাড়ি সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ঢাকা-টঙ্গীবাড়ি সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে এসে রাস্তা অবরোধ করে। এ সময় টায়ারে আগুন দেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।
সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজ আল-আসাদ বারেক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাহিদ খান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এমিলি পারভীন, জেলা পরিষদের সদস্য আতিকুর রহমান শিল্পী, কামারখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান খুকু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. চঞ্চল প্রমুখ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে হাফিজ আল-আসাদ বারেক সভাপতি ও আহসান কবীর হালদারকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি ঘোষনা করা হয়। পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জেলা কমিটির কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটির প্রস্তাব পাঠান। অথচ প্রায় পৌনে ৩ বছর পর গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে হাফিজ আল-আসাদ বারেককে সভাপতি ও বেলায়েত হোসেন লিটন মাঝিকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যের টঙ্গীবাড়ি আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
টঙ্গীবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজ আল আসাদ বারেক বলেন, ‘২০২১ সালের ৬ অক্টোবরের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে আহসান কবীর হালদার ২৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম রাব্বানী শান্ত পেয়েছিলেন ১৪৪ ভোট। অপর প্রতিদ্বন্দ্বী বেলায়েত হোসেন লিটন মাঝি পান ৬৯ ভোট। সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা সেই বেলায়েত হোসেন লিটন মাঝিকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি অনুমোদন দেওয়া যুক্তিসংগত নয়। আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা গোলাম রাব্বানী শান্তকে রাখা হয়েছে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে। ২০২১ সালের ৬ অক্টোবরের সম্মেলনে কাউন্সিলদের ভোটে নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাঠানো পূর্ণাঙ্গ কমিটির অধিকাংশেরই স্থান হয়নি এ কমিটিতে। তাই ক্ষোভে ফুঁসছেন নেতাকর্মীরা।’
অনুমোদন পাওয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন লিটন মাঝি বলেন, ‘আগের কমিটিতে যারা সক্রিয় নন এমনদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান বলেন, ‘যিনি আগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তিনি একজন খুনের মামলার আসামি। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। আবার তিনি একজন প্রবাসী। সব মিলিয়ে সংগঠনকে গতিশীল করতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আমার সমন্বয়ে নতুন এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।’