কমলগঞ্জে বাঁধের ২৪ স্থানে ধস

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধের এখন নড়বড়ে অবস্থা। বর্তমানে নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত দুই দিনে বাঁধের অনেক জায়গায় ধস শুরু হয়েছে। কমলগঞ্জ পৌরসভার চারটি স্থানসহ উপজেলার অন্তত ২৪টি স্থানে বাঁধ ধসে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ধস হওয়া স্থানগুলোতে বাঁধের মাত্র এক থেকে দুই ফুট অবশিষ্ট রয়েছে। ভারী বৃষ্টি হলে এসব স্থানে বাঁধ ভেঙে গিয়ে নদীর পানি ঢুকে এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের কমলগঞ্জ পৌরসভা অংশের চারটি স্থান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানগুলো হলো রামপাশা, কুমড়াকাপন, আলেপুর ও নরেন্দ্রপুর। বিশেষ করে রামপাশায় প্রায় ২০০ মিটার এলাকা ধসে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই পুরো বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হতে পারে গোটা এলাকা। অন্যদিকে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মোকাবিল, গোলেরহাওর ও শ্রীপুর; আদমপুর ইউনিয়নের হকতিয়ারখোলা, তিলকপুর, ঘোড়ামারা, বনগাঁও ও কেয়ালীঘাট; মাধবপুর ইউনিয়নের হিরামতি ও পাত্রখোলা; কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতণ্যগঞ্জ, নারায়ণপুর ও রামপুর; মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুরানন্দপুর, বাদে করিমপুর, খুশালপুর ও লক্ষ্মীপুর; রহিমপুর ইউনিয়নের ছয়কুট, চৈত্রঘাট ও কালেঙ্গা এই ২০টি স্থানে নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব স্থানে বাঁধ ভেঙে ভেঙে বর্তমানে এক থেকে দুই ফুট পরিমাণ মাটি আছে। চৈত্রঘাট এলাকায় দুদিন আগের বন্যায় বাঁধ ভেঙে কয়েক গ্রাম প্লাবিত হয়। সেখানে জিওব্যাগ ফেলে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করলেও ঝুঁকিতে রয়েছে। ফের ভারী বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢলে বাঁধ আটকানো সম্ভব হবে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, কমলগঞ্জ পৌর এলাকার রামপাশা গ্রামের রফিক বখসের বাড়ির পাশেই ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট অংশ ভেঙে পড়েছে। সেখানে এক ফুট পরিমাণ বাঁধ টিকে আছে। আলাপকালে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর বখতিয়ার খান বলেন, ‘বাঁধের এমন অবস্থায় অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে পাঁচটি পরিবার। আবারও নদীতে পানি বাড়লে পুরো বাঁধটি নদীতে চলে যাবে। দ্রুত বাঁধ মেরামত প্রয়োজন।’

কমলগঞ্জে দায়িত্বরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া বলেন, ‘ধলাই নদীর উভয়পাশে প্রতিরক্ষা বাঁধ পুরাতন। নতুন প্রকল্প গ্রহণ ছাড়া বাঁধ টেকানো সম্ভব নয়।’

আরেক উপসহকারী প্রকৌশলী সাকিব আহমদ বলেন, ‘ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়ন এলাকায় ১০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। সেগুলো মেরামত করা হবে।’

কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল বলেন, ‘বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। বাঁধ দ্রুত মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘ধলাই নদীর বাঁধগুলো পুরনো। অনেক স্থানে বাঁধের অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে সব ঝুঁকিপূর্ণ অংশের তালিকা করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই বাঁধের কাজ শুরু হবে।’