বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রী ও বিদ্যুৎকর্মীর মৃত্যু

শরীয়তপুরের জাজিরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল বিদ্যুৎ অফিসের এক লাইনম্যানের। গত শনিবার রাতে ও গতকাল রবিবার সকালে পৃথক ঘটনা দুটি ঘটে।

শরীয়তপুরের জাজিরায় নিহতরা হলেন উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের মান্নান মল্লিক কান্দি এলাকার মৃত নাজিমুদ্দিন মল্লিকের ছেলে আজিজুল মল্লিক (৫০) ও তার স্ত্রী নিলুফা বেগম (৪৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বৈদ্যুতিক তারের লিকেজ হওয়া স্থানে কসটেপ লাগাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হন নিলুফা বেগম। এ সময় স্বামী আজিজুল তাকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুতায়িত হন। পরে স্থানীয়রা বিদ্যুতের সুইচ বন্ধ করে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

জাজিরা থানার ওসি হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ হারিয়েছেন বিদ্যুৎকর্মী আবদুল খালেক (৩০)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও এক লাইনম্যান সোহেল রানা। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সাধুখালী গ্রামের এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলাকে দায়ী করেন স্থানীয়রা। নিহত আবদুল খালেক কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুমারগাড়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সাধুখালী গ্রামের বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার মেরামতের কাজ করছিলেন শেখপাড়া বিদ্যুৎ অফিসের লাইনম্যান সোহেল রানা ও আবদুল খালেক। মেরামতের সময় বিদ্যুতের কন্ট্রোলরুমে ফোন দিয়ে ওপরে ওঠেন লাইনম্যান সোহেল রানা। কিন্তু বিদ্যুৎ বন্ধ না থাকায় বিদ্যুতায়িত হন সোহেল। নিচ থেকে লাইনম্যান খালেক ফোন করে আবারও বিদ্যুৎ বন্ধ করতে বলে ওপরে উঠে সোহেলকে উদ্ধার করতে যান। সে সময় কন্ট্রোল থেকে আবারও বিদ্যুৎ চালু করে দেওয়া হয়। এতে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই আবদুল খালেক মারা যান। আহত সোহেল রানাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে শৈলকুপা পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘লাইন বন্ধ করে কাজ চলছিল। কিন্তু কীভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলো তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।’