পানির অভাবে চলনবিলে  অস্তিত্ব সংকটে জলজ প্রাণী

নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলের পাশাপাশি ৬টি নদীও পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে করে মাছসহ জলজ প্রাণী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারকে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। আর স্থানীয় মৎস্য বিভাগ জলজ জীবের অস্তিত্ব সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলছে, অনাবৃষ্টি ও তাপপ্রবাহের কারণে এ পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, বেশ কয়েকটি নদীর সংযোগ থাকায় চলনবিলে সারা বছর পানি চলমান থাকত। বিলটির নাম চলনবিল হওয়ার পেছনেও এর ভূমিকা আছে বলে জানা যায়। কিন্তু সেই চিত্র এখন আর নেই। একসময় আশপাশের নদী খাল-বিলে সারা বছর মাছ পাওয়া গেলেও, সেটিও এখন কল্পনা। প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটারের চলনবিলের মধ্যে নাটোরের সিংড়া উপজেলায় পড়েছে ২৬ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে সিংড়া উপজেলার ৬টি নদী ও বিলের এই ২৬ বর্গকিলোমিটার পানিশূন্য।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর সিংড়া উপজেলার আত্রাই, নাগর, গুড়, বারনই, নন্দকূজা, বানগঙ্গা নদীসহ প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর উন্মুক্ত প্লাবনভূমি থেকে ১২ হাজার টন দেশীয় প্রজাতির মাছ আহরণ করা হয়েছিল। দিন দিন এর পরিমাণ কমছে। বিলের জলজ প্রাণী রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মাছের বৃহৎ উৎস চলনবিল ধীরে ধীরে মাছশূন্য হয়ে পড়বে।

উপজেলার ডাহিয়া এলাকার রাশেদ বলেন, ‘১০ বছর আগেও চলনবিলে ৬ মাস ও নদীতে সারা বছর পানি থাকত। সারা বছরই পর্যাপ্ত মাছ ও পাখি থাকত। বর্তমানে বিলে ২ মাস ও নদীতে ৩ মাস পানি থাকে। ৬টি বড় নদীতে হাঁটুর নিচে পানি থাকায় মাছশূন্য হয়ে যাচ্ছে চলনবিল। গত ১০ বছরে চাঁদা, পাবদাসহ নানা ধরনের মাছ বিল থেকে হারিয়ে গেছে।’

আয়েশ গ্রামের সোহরাব হোসেন বলেন, ‘নদীগুলোয় সারা বছরই পানি ছিল। নৌপথে আরামদায়ক ও নিরাপদ চলাচল হলেও তা থেকে এখন বঞ্চিত হচ্ছি আমরা।’

পরিবেশ ও প্রকৃতি আন্দোলনের সভাপতি মো. এমরান আলী রানা বলেন, ‘চলনবিল পানিশূন্য হয়ে পড়ায় জলজ প্রাণীগুলো অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। চলনবিলে অবাধে পুকুর খনন ও অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণের ফলে এই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। চলনবিল রক্ষা করতে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সরকারকে নজর দিতে হবে।’

উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘টানা দুই মাসের তাপপ্রবাহের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পানিশূন্য চলনবিলের ১২টি অভয়াশ্রমে মাছসহ জলজ প্রাণী রয়েছে। এই অভয়াশ্রমগুলোতে সেচ দিয়ে তাদের টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। চলতি বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও বিলে পর্যাপ্ত পানি এলে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’