একজনের কাছ থেকেই ট্রাম্প পেলেন ৮৮১ কোটি টাকা

আসন্ন মার্কিন নির্বাচন উপলক্ষে রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প বহু ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ জোগাড় করছেন। এবার এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে ৮১ বছর বয়সী বিলিয়নিয়ার টিমোথি মেলনের নাম। টিমোথি ট্রাম্পের চলমান তহবিলে ৭৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮৮১ কোটি টাকা দান করেছেন, যা একক ব্যক্তি হিসেবে সর্বোচ্চ।

বিবিসি বলছে, টিমোথি মূলত পরিবারের ব্যাংকিং ব্যবসায় বহু অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন। যারা কি না ইন্ডিপেনডেন্ট প্রার্থী এফ কেনেডিরও বড় ডোনার ছিলেন। রাজনৈতিক অনুদানের বিষয়ে বিবিসির পক্ষ থেকে জানতে টিমোথির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা এই ধনকুবের কোনো মন্তব্য করেননি।

ফোর্বসের তথ্যমতে, টিমোথি মূলত থমাস মেলনের বংশধর। যিনি কি না ১৮১৮ সালে আয়ারল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এরপর রিয়েল এস্টেট ও ব্যাংকিং ব্যবসা করে বহু অর্থ আয় করেন। টিমোথির দাদা অ্যান্ড্রু ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ট্রেজারি সেক্রেটারি। পরিবারটির বর্তমানে সম্পদের পরিমাণ ১৪ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪তম ধনী।

টিমোথির জন্ম ১৯৪২ সালে। তিনি ইয়েল ইউনিভার্সিটিতে নগর-পরিকল্পনায় পড়াশোনা করেছেন। তার বাবা ছিলেন সেখানকার অন্যতম দাতা। ১৯৮১ সালে টিমোথি গুইলফোর্ড ট্রান্সপোর্টেশন ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত কানেকটিকাটে অবস্থিত তার হোমল্যান্ডের নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে তাদের ব্যবসার অন্যতম ছিল রেলপথ নির্মাণ।

এদিকে টিমোথি দীর্ঘ ২১ বছর অ্যান্ডিউ ডব্লিউ মেলন ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ২০০২ সালে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

এরপর ২০০৫ সালে টিমোথি জন্মস্থান কানেকটিকাট ছেড়ে উয়োমিংয়ে বসবাস শুরু করেন। অনেকটা একাকী থাকা এই ধনকুবের গণমাধ্যমেরও খুব একটা মুখোমুখি তিনি হন না।

অবশ্য আগে থেকেই টিমোথি কনজারভেটিভ প্রার্থীদের অনুদান দিয়ে আসছেন। এর আগে সাক্ষাৎকারে তাকে ট্রাম্পের প্রশংসা করতেও দেখা গিয়েছে।

টিমোথি ব্লমবার্গকে বলেন, ট্রাম্প যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেটি করেছেন কিংবা করার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, ট্রাম্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন ছিল বাণিজ্য ও চীন থেকে শুরু করে বিশ্বের বাকি অংশের সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা করা।