সালটা ২০১৬। কোপার শতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ কোপা টুর্নামেন্টের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। সেবার ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা ও চিলি। আগের বছরও ফাইনাল খেলেছিল এই দুটি দেশই। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ২০১৪ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ার পর একই ভাগ্য বরণ করেছিলেন ২০১৫ কোপা আমেরিকাতেও। এবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে চিলির কাছে হারের প্রতিশোধ নেবেন মেসি, তার হাতে উঠবে কোপা আমেরিকার শিরোপা। এমন ভাবনা ছিল আর্জেন্টিনার ফুটবল ভক্তদের।
পরের গল্পটা মেসিপ্রেমীদের জানা। ২০১৬-এর সেই ফাইনাল ম্যাচটি নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে গোলশূন্য ছিল। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ এ জিতে নেয় চিলি। মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে টাইব্রেকারে প্রথম শটটি নিতে গিয়ে উড়িয়ে মেরেছিলেন বারের ওপর দিয়ে।
ম্যাচটি হারের পর হতাশায় জার্সি দিয়ে মুখ ঢাকেন মেসি। কাঁদলেনও। আর্জেন্টাইনরা আরেকটি ফাইনাল হারের দুঃখ কী সইবেন এরই মধ্যে এলো ঘোষণা। মেসি বলেন, ‘আমার জাতীয় দলের হয়ে খেলার অধ্যায় শেষ!’
পরে মেসি অবসর ভেঙে ফিরেছেন আর্জেন্টিনা দলে, দলকে তুলেছেন ২০১৮ বিশ্বকাপের মূল পর্বে। সেবার না হলেও ২০২১-এ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২-এ কাতারে বিশ্বকাপ জয় মেসিকে দিয়েছে ফুটবল ক্যারিয়ারে পূর্ণতা। আর্জেন্টিনা ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে জিতেছে বিশ্বকাপ।
হঠাৎ কেন বিশদভাবে সেই ২০১৬-এর ঘটনা মনে করা? এবারও যুক্তরাষ্ট্রে বসেছে কোপা আমেরিকার আসর। ৮ বছর পর বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আবারও মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও চিলি।
কোপা আমেরিকায় 'এ' গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও চিলি। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭ টায়। গ্রুপে প্রথম ম্যাচে মেসির আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে হারিয়েছে কানাডাকে। আর চিলি পেরুর সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে।
নিজেদের শেষ ১৪ ম্যাচে মাত্র একটিতে হেরেছে আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টে সবশেষ ৩৭৮ মিনিট ধরে গোল পায় না চিলি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে চিলি জিতেছে মাত্র আটটি ম্যাচ। আর্জেন্টিনার জয় ৬২ ম্যাচে আর বাকি ২৫ ম্যাচ ড্র হয়।
আলবিসেলেস্তেদের বিপক্ষে সবশেষ জয়টা চিলি পায় ২০১৬ সালের সেই ফাইনালে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই।
চিলির বিপক্ষে মেসির সুখস্মৃতির চেয়ে যেন দুঃখের স্মৃতিটাই বেশি। ২০১৯ কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চিলির বিপক্ষে ২-১ গোলে আর্জেন্টিনা জিতেছিল ঠিকই। কিন্তু সেদিন এক ঘটনায় ম্যাচের ৩৭ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন মেসি। যা নিয়ে হয় বিতর্ক।
বল দখলের লড়াইয়ে গ্যারি মেডেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছিলেন মেসি। সেটি ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত, তখন পরিষ্কার বোঝা যায়নি। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়ায় মেডেল শরীর দিয়ে গুঁতোতে শুরু করেন মেসিকে। হঠাৎ সেই আক্রমণের পাল্টা জবাব দেননি মেসি। দুই হাত তুলে চিলি অধিনায়কের প্রতিটি গুঁতোয় পিছিয়েছিলেন দু-এক পা করে। এর মধ্যে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য কাণ্ডটি ঘটান রেফারি মারিও ডিয়াজ দে ভিভার।
ছুটে এসে সরাসরি লাল কার্ড দেখালেন দুজনকেই! পরে ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ করেননি মেসি। বড়জোর হলুদ কার্ড দেখানো যেত। আর্জেন্টিনা তৃতীয় স্থান নিশ্চিতের পর পদক নিতে মঞ্চে যাননি মেসি।
সেই ঘটনার পর মেসি চিলির বিপক্ষে খেলেছেন তিনটি ম্যাচ। যার দুটিতে গোল করেন। এবারের কোপা আমেরিকায় প্রথম ম্যাচে গোলকিপারকে একা পেয়েও বল জালে পাঠাতে পারেননি মেসি। আজ চিলির বিপক্ষে তিনি গোল পান কি না সেটি দেখার।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘চিলি ও কানাডার মধ্যে পার্থক্য আছে। আমরা সব সময়ই বলে এসেছি আমরা এমনভাবেই খেলব যেভাবে খেললে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পারব। আমি মাঠ এখনো দেখিনি তবে আমাদের যা আছে তাই নিয়েই লড়তে হবে। চিলির বিপক্ষে যে দল নামালে ভালো হবে সেটিই করা হবে। দল হিসেবে আমরা প্রতি ম্যাচেই উন্নতি করছি।’
চিলির বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।