ভারত সরকারের দাবি

গঙ্গা ও তিস্তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে আগেই জানানো হয়েছিল

সম্প্রতি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন ও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ও নয়াদিল্লির মধ্যে সমঝোতা বৈঠকে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের বিষয়ে তাকে জানানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে মমতার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার সরকারি একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা বলেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের ।

চলতি সপ্তাহে নয়াদিল্লি সফর করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এ সফরে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে গঙ্গার পানিচুক্তির (ফারাক্কা) নবায়ন ও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে উপেক্ষা করেই গঙ্গা চুক্তি নবায়নের চেষ্টা চলছে। এমনকি বৈঠকের বিষয়ে তাকে জানানোও হয়নি। চুক্তি নবায়নের জন্য আলোচনা শুরুর সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা’ বলে অভিহিত করেছেন মমতা।

গত সোমবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে ছাড়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন ও তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। এ নিয়ে তিনি সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠিও লিখেছেন। চিঠিতে তিনি বলেন, রাজ্য সরকারকে বাদ দিয়ে এককভাবে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা মেনে নেওয়া বা আশা করা কোনোটাই উচিত নয়।

তবে পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের জন্য যোগাযোগ করা হয়। পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ ও পানিসম্পদ দপ্তরের এক যুগ্ম সচিব (ওয়ার্কস) আগামী ৩০ বছরে ফারাক্কা বাঁধের পরের অংশে উজানে নদীর প্রবাহ (ডাউনস্ট্রিম) ও পশ্চিমবঙ্গের পানির চাহিদা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সরকারকে জানান।

কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে একজন প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছিল। যাতে রাজ্য সরকারের ওই প্রতিনিধিকে কেন্দ্রীয় সরকার গঠিত পানি বিষয়ক একটি প্যানেলে রাখা যায়। এর উদ্দেশ্য ১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ফারাক্কা চুক্তির ‘অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা’ করা।

২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ ও জলপথ বিভাগের যুগ্ম সচিব কেন্দ্রকে জানিয়ে দেন, আগামী ৩০ বছরে ফারাক্কা বাঁধের ডাউনস্ট্রিমের জন্য তাদের কী পরিমাণ অর্থ লাগবে।

‘অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা’ প্যানেলে প্রতিনিধি দেওয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত বছর ২৫ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সেচ ও জলপথ দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে মনোনীত করার বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়।

সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যে বলছেন, তাদের না জানিয়ে ফারাক্কার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন হচ্ছে, তা ঠিক নয়।

১৯৯৬ সালে ফারাক্কা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে। যে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালে।

কেন্দ্রীয় সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে দেশের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ‘পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এই চুক্তি আবার নবায়ন হবে বলে চুক্তিতেই লেখা আছে। তাহলে রাজ্য সরকার এটা আটকাতে পারে কি না, তার আইনি দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আবার এটাও মাথায় রাখতে হবে, নদীটি একটি রাজ্যের মধ্য দিয়ে গেছে। সেখানকার মুখ্যমন্ত্রীকে সঙ্গে না নিয়ে কোনো চুক্তি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা কঠিন।’

ওই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, এ ছাড়া রাজ্যকে সঙ্গে না নেওয়ার অন্য সমস্যা হচ্ছে, ভারতের সংবিধানে পানির নিয়ন্ত্রণ রাজ্যের হাতে। আন্তঃরাজ্য নদীর ক্ষেত্রে সংসদ ও বিচার বিভাগের পরামর্শ এবং নির্দেশক্রমে কেন্দ্রীয় সরকার পানিবণ্টনের ক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া বেশ জটিল।