যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বয়স্ক দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম বিতর্কে মুখোমুখি হতে চলেছেন।
স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার আটলান্টায় বিতর্কে মুখোমুখি হবেন ৮১ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন এবং ৭৮ বছর বয়সী রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারা যখন কথার লড়াইয়ে নামছেন তখন সময়ে জনমত জরিপগুলোতে বাইডেন-ট্রাম্পের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আসছে তাদের পক্ষে-বিপক্ষের নানা মতামত ও তথ্য। এর মধ্যেই ১৬ জন নোবেল পুরস্কারজয়ী অর্থনীতিবিদ এমন এক মতামত দিয়েছেন যা ট্রাম্পের বিপক্ষেই যায়। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই চিঠিতে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরলে দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত ও মূল্যস্ফীতি পুনরুজ্জীবিত হবে।
তারা বলেন, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ট্রাম্প জিতলে তিনি ‘আর্থিকভাবে দায়িত্বহীন বাজেটের’ মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা উসকে দিতে ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন।
অর্থনীতিবিদরা বলেন, ‘অর্থনৈতিক সাফল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকের মধ্যে রয়েছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক নিশ্চয়তা। অন্যান্য দেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্কে আবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের মতো কোনো দেশের জন্য আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করা এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখাও অপরিহার্য।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার পদক্ষেপ ও নীতির অস্পষ্টতা এই স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হুমকিতে ফেলবে বলে মনে করেন চিঠিতে স্বাক্ষরকারী অর্থনীতিবিদরা।
এই অর্থনীতিবিদরা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদরা বলেন, যদিও অনেক অর্থনৈতিক নীতির সুনির্দিষ্টবিষয় নিয়ে আমাদের প্রত্যেকের আলাদা মত রয়েছে, কিন্তু একটা বিষয়ে আমরা একমত যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে জো বাইডেনের অর্থনৈতিক কর্মসূচি অনেক ভালো।
চিঠিতে বলা হয়, বাইডেন তার শাসনামলের প্রথম চার বছরে দেশের অর্থনীতিতে বড় বিনিয়োগবান্ধব কিছু আইন পাস করেছেন। এর মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা-সংশ্লিষ্ট আইন উল্লেখযোগ্য। সম্ভবত এগুলো উৎপাদনসক্ষমতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির চাপ কমাচ্ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্থানান্তর সহজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট এক্সিওসে প্রথম এ চিঠির বিষয়ে খবর প্রকাশ করা হয়। যে কজন নোবেলজয়ী চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন, তাদের মধ্যে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ স্টিগলিৎজ, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট শিলার ও স্যার অ্যানগাস ডিটনের মতো অর্থনীতিবিদরাও।
তবে অর্থনীতিবিদরা যাই বলুন, সম্ভাব্য ভোটাররা অবশ্য বারবারই ট্রাম্পকে অর্থনীতির জন্য বেশি আস্থাশীল বলছেন।