এইচএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে বিদ্যুতের ঘন ঘন এবং একটানা লোডশেডিংয়ে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বরিশাল, কুমিল্লা, পটুয়াখালী ও সাতক্ষীরা জেলার ঘরে ঘরে, অফিস-আদালতে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
বরিশাল : কয়েক দিন ধরে বরিশালে ১০ মিনিট বা আধাঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ সরবরাহে তীব্র বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এর মধ্যেই রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট বন্ধ থাকায় গত তিন দিন ধরে বরিশালে বিদ্যুৎ সরবরাহে তীব্র বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যা আগামী এক সপ্তাহে স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের বরিশাল গ্রিড স্টেশন।
বিদ্যুৎ বিভাগের বরিশাল গ্রিড স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি পাওয়ার প্ল্যান্টের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। আগামী জুলাইয়ের ৩-৪ তারিখে বিকল হওয়া পাওয়ার প্ল্যান্টটি সচল হতে পারে।
অন্যদিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬ জেলার ৩৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৬ হাজার ৫৬২ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হবে এ পরীক্ষা।
বেশ কয়েক জন অভিভাবকের ভাষ্য, তীব্র গরমে দিন রাত ২৪ ঘণ্টাই কখনো কখনো ১০ মিনিট, আবার আধাঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। এতে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় প্রভাব পড়ছে। ঠিক মতো প্রস্তুতি নিতে পারছে না। আবার পরীক্ষা কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকলে সেখানেও ভোগান্তিতে পড়তে হবে সব শিক্ষার্থীদের।
কুমিল্লা : নাঙ্গলকোটে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। প্রতিদিন অন্তত ১৮ ঘণ্টা এলাকাবাসীকে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে। গত ৪-৫ দিন থেকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের সঙ্গে তীব্র তাপপ্রবাহেও মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সকাল থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্ট বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়িতে মানুষজনকে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকাবাসীকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে নাঙ্গলকোট পৌরসদরসহ ১৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়া নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় পোল্ট্রি খামারগুলোতে অতিরিক্ত গরমে মুরগির বাচ্চা নষ্ট হওয়ার অভিয়োগ উঠেছে।
পটুয়াখালী : পটুয়াখালীতে তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবনে দিনে রাতে সমানে চলছে সীমাহীন লোডশেডিং। শহরের চেয়ে গ্রামে আরও বেশি ভয়াবহ ও তীব্র লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বলছে, পায়রা ১৩২০ মেঘাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বলছে, যেখানে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকছে, সেখানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর দায় চাপানো নিজেদের টেকনিক্যাল ক্রুটির অক্ষমতাকে আড়াল করা ছাড়া আর কিছু নয়।
সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার ঘরে ঘরে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। হঠাৎ ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জেলাবাসী। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুতের লুকোচুরির কারণে তাদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে। এক দিকে তীব্র তাপপ্রবাহ আর অন্যদিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাকাল হয়ে পড়েছে জেলার ২২ লক্ষাধিক মানুষ।
অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জেলার বিসিক শিল্পনগরীতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ শিল্পনগরীর অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীর উপ-ব্যবস্থাপক গৌরব দাশ বলেন, বিসিকে উৎপাদনশীল ৪২টি কারখানা রয়েছে। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানাগুলোতে মারাত্মকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।