গভীর সমুদ্রবন্দর বে-টার্মিনালে বিশ্বব্যাংকের ঋণ

বিশ্বে বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে ৬৫ কোটি ডলারের ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রতি ডলার ১১৭ টাকা হারে বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। গতকাল শনিবার বিশ্বব্যাংকের বোর্ড অব এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরস বে-টার্মিনাল গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় বিনিয়োগে সহায়তা করার জন্য এ ঋণ অনুমোদন করেছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এই প্রকল্পের কার্যক্রমও ব্যাখ্যা করেছে বিশ্বব্যাংক। তারা বলছে, বে-টার্মিনাল সামুদ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি তরঙ্গ, স্রোত এবং চরম আবহাওয়ার বিপর্যয় থেকে পোতাশ্রয়কে রক্ষা করতে একটি ৬ কিলোমিটার জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক ব্রেকওয়াটার নির্মাণ করবে। নতুন আধুনিক বে-টার্মিনালটি নেতৃস্থানীয় আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। প্যানাম্যাক্স জাহাজের মতো বড় আকারের জাহাজও এই বন্দরে ভিড়তে পারবে। জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এ বন্দরটি চালু হলে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

প্রকল্পটির মাধ্যমে কনটেইনার টার্মিনালগুলোর উন্নয়নের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়বে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতের শাখা, আইএফসি প্রস্তাবিত বেসরকারি খাতের নেতৃত্বাধীন টার্মিনালে বিনিয়োগ করার কথা বিবেচনা করছে বলে জানানো হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। ২৩-২৪ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্পসহ বাংলাদেশকে ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন সহায়তার রেকর্ড প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে সহায়তাকারী প্রথম উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ছিল। তারপর থেকে বিশ্বব্যাংক দেশটিকে প্রায় ৪২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার অনুদান, সুদমুক্ত এবং রেয়াতি ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।