হার্ট অ্যাটাকের পরের ঝুঁকি

হার্ট অ্যাটাক আমাদের কাছেই পরিচিত বিষয়।  হার্ট অ্যাটাকের প্রধান কারণ রক্তনালি সম্পর্কিত হৃদরোগ বা করোনারি হার্ট ডিজিজ। হার্টে রক্ত সরবরাহকারী প্রধান রক্তনালিগুলোকে করোনারি আর্টারি বা ধমনি বলা হয়। করোনারি হার্ট ডিজিজে এসব ধমনির ভেতরে কোলেস্টেরল জমা হয়ে রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। জমাট বাঁধা এসব কোলেস্টেরলকে প্ল্যাক বলে। হার্ট অ্যাটাকের আগে এমন একটি কোলেস্টেরল প্ল্যাক ফেটে যায়। সেখানে রক্ত জমাট বাঁধে। এই জমাট বাঁধা রক্ত হার্টে রক্ত সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে।

কেন ঝুঁকি

ধূমপান করা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, চর্বিযুক্ত খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ওজনে ও ডায়াবেটিস থাকলে তারা ঝুঁকিতে থাকবেন। এ ছাড়া বাবা বা ভাই ৫৫ বছর বয়সের আগে কিংবা মা বা বোন ৬৫ বছর বয়সের আগে হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে, আপনিও করোনারি হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হতে পারেন।

হার্ট অ্যাটাকের পরের সুস্থতা

হার্ট অ্যাটাকের পরে আরোগ্য লাভ করতে কতটুকু সময় লাগবে নির্ভর করে হার্টের পেশিগুলো কী পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার ওপর। বেশিরভাগ রোগীই হার্ট অ্যাটাকের পরে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরতে পারেন। কেউ ২ সপ্তাহ পরেই কাজে যোগ দিতে পারেন। কারো সুস্থ হয়ে উঠতে কয়েক মাস সময় লাগে। রোগী কত দ্রুত কাজে ফিরতে পারবেন তা নির্ভর করবে স্বাস্থ্য, হার্টের অবস্থা ও কাজের ধরনের ওপর।

জীবনধারায় স্বাস্থ্যকর পরিবর্তনের সমন্বয় ঘটিয়ে (যেমন : স্বাস্থ্যকর ও সুষম ডায়েট) ও রক্তের কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ সেবনের মাধ্যমে পুনরায় হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়। ধীরে ধীরে শারীরিক সুস্থতা বা ফিটনেস ফিরিয়ে আনা যেন রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। এই প্রক্রিয়াকে কার্ডিয়াক পুনর্বাসন বলা হয়।

হার্ট অ্যাটাক-পরবর্তী সমস্যা

হার্ট অ্যাটাকের ফলে সৃষ্ট জটিলতাগুলো গুরুতর এমনকি প্রাণঘাতী হতে পারে। এসব জটিলতার মধ্যে আছে  অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন বা হার্টবিটকে অ্যারিদমিয়া বলা হয়। এক ধরনের অ্যারিদমিয়াতে হার্ট প্রথমে খুব দ্রুত স্পন্দন বা পাম্প করতে শুরু করে। হঠাৎ হার্টে খিঁচুনির মতো অবস্থা শুরু হয়ে যায় এবং হার্ট কাজ করা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয় (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট)।  কার্ডিওজেনিক শক অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাকের পরে হার্টের পেশিগুলো এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে, হার্ট স্বাভাবিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার জন্য দেহে যথেষ্ট পরিমাণ রক্ত সঞ্চালন করতে ব্যর্থ হয়।  হার্ট রাপচার অবস্থায় হার্টের পেশি, দেয়াল অথবা ভেতরের ভালভগুলোর যে কোনোটি ছিঁড়ে বা ফেটে যেতে পারে। এসব জটিলতা হার্ট অ্যাটাকের অল্প সময়ের মাঝেই দেখা দিতে পারে। এগুলো হার্ট অ্যাটাকজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ। এসব জটিলতা থেকে অনেকে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে কিংবা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার এক মাসের মধ্যে আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারেন। রোগীর মধ্যে এসব জটিলতা কতটুকু প্রভাব ফেলবেতা কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। তার বয়স বাড়ার সঙ্গে বিভিন্ন গুরুতর জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। হার্ট অ্যাটাকের ধরন কতটা গুরুতর এবং অ্যাটাকের ফলে হার্টের পেশিগুলো কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার ওপর জটিলতার তীব্রতা নির্ভর করে। এ ছাড়া লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করতে যতটুকু সময় লাগে সেটি বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনার ওপর প্রভাব ফেলে।