দ্বিতীয় দফায় গড়াল ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শীর্ষে থাকা দুই প্রার্থীর কেউ ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় রান-অফ ভোটের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল শনিবার মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে, আগামী ৫ জুলাই রান-অফ ভোটগ্রহণ করা হবে আর এগিয়ে থাকা দুই প্রার্থী এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, মধ্যপন্থি আইনপ্রণেতা মাসুদ পেজেশকিয়ান ২ কোটি ৪০ লাখ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টরপন্থি কূটনীতিক সাঈদ জালিলি থেকে ১ কোটিরও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। জালিলি পেয়েছেন ৯৪ লাখের চেয়ে কিছু বেশি ভোট।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার এক মাসেরও বেশি সময় পর পরবর্তী প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে গত শুক্রবার দেশটিতে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে চারজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোট গণনায় লড়াইটা এসে ঠেকে দুই প্রার্থীর মধ্যে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর ভাষ্য, ১৯৭৯ সালে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এবার প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সর্বনিম্ন ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহসেন ইসলামি জানান, মোট ভোটার সংখ্যা ৬০ মিলিয়ন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ২৪ মিলিয়ন। সে হিসেবে ভোটার উপস্থিতির হার ৪০ শতাংশ।

ইরানের চূড়ান্ত ক্ষমতা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হাতে, তাই নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন দেশটির নীতিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে না। কিন্তু দেশটির প্রেসিডেন্ট সরকার পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন এবং দেশটির নীতির সুরকে প্রভাবিত করতে পারেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি বিশ্বস্ত হলেও পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক উদারীকরণ এবং বহুদলীয় রাজনীতির পক্ষে। সাবেক হার্ট সার্জন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাসুদ পেজেশকিয়ান নির্বাচনের আগে এক ভিন্নধর্মী ঘোষণা দিয়েছিলেন। দেশটির নীতি পুলিশ যারা ইরানের নারীদের ওপর নির্দিষ্ট পোশাক কোড প্রয়োগের দায়িত্বে রয়েছে তাদের কার্যক্রমকে ‘অনৈতিক’ বলে ঘোষণা দেন তিনি।