যে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে একদিন ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে মাথা নিচু করে ফিরতে হয়েছিল, সেখানেই গৌরবের মুকুট মাথায় পরলেন রাহুল দ্রাবিড়।
আগেই জানিয়েছিলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষে ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব ছাড়ছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি ভারতের কোচ হিসেবে দ্রাবিড়েরও শেষ ম্যাচ ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'ডু ইট ফর দ্রাবিড়' নামক ক্যাম্পেইনই প্রমাণ করে ভারতীয় সমর্থকদের কাছে মর্যাদায় দ্রাবিড়ের অবস্থান কোথায়। সেটির প্রমাণ মিললো খেলোয়াড়দের দ্রাবিড়ের প্রতি শ্রুদ্ধা দেখেও।
ভারত গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর ট্রফি হাতে নিয়ে দলের সঙ্গে উদযাপন করলেন রোহিত শার্মা। এরপর ট্রফিটি তুলে দিলেন তিনি ভিরাট কোহলির হাতে। বিরাট নিজের কাছে কিছু সময় রেখে ডাকলেন দ্রাবিড়কে। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব সেরার ট্রফি দ্রাবিড়ের হাতে তুলে দিলেন।
সেখানেই শেষ নয়। সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ শেষে সবাই জড়ো হলেন উইকেটের কাছে। এবার দ্রাবিড়কে কোলে তুলে নিলেন রোহিত ও কোহলি। সাবেক সতীর্থ ও বর্তমান কোচকে শূন্যে ভাসালেন তারা বারবার। এই ভালোবাসা, এই সম্মান তো দ্রাবিড়ের প্রাপ্যই।
কোহলি ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কাধে তুলেছিলেন শচীন টেন্ডুলকারকে। কোহলি যখন ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে এসে জানালেন টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের কথা ধারাভাষ্যকার হার্ষা ভোগলে জিজ্ঞেস করেছিলেন তাকে (কোহলিকে) কাঁধে তোলার সময় এলো কিনা। কোহলি সেই সময় উত্তরে বলেন, বিশ্বকাপ ট্রফিটা রোহিতেরও প্রাপ্য, তার নবম বিশ্বকাপ। পরে সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত বললেন, এই ট্রফি দ্রাবিড়েরই সবচেয়ে বেশি প্রাপ্য।
রাহুল দ্রাবিড়কে নিয়ে রোহিত বলেন, 'আমি মনে করি, আমাদের যে কারও চেয়ে ট্রফিটি তারই (দ্রাবিড়) বেশি প্রাপ্য। গত ২০-২৫ বছর ধরে ভারতের ক্রিকেটের জন্য তিনি যা করেছেন, আমার মতে, তার অর্জনের ঝুলিতে এটিই (বিশ্বকাপ ট্রফি) শুধু বাকি ছিল।'
জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ার আগে দীর্ঘ দিন ভারতের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমির দায়িত্ব পালন করেন দ্রাবিড়। তার অধিনে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় করে ভারত।
কিন্তু দ্রাবিড় মূল দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনবার খুব কাছে গিয়েও সাফল্যের দেখা পাননি। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সেমি-ফাইনালে থামে ভারতের যাত্রা। পরের বছর আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে হেরে যায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে। এরপর ঘরের মাঠের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও একই দলের কাছে হারে ভারত।
খেলোয়াড়ি জীবনেও শিরোপার কাছে গিয়েও হৃদয়ভাঙা অভিজ্ঞতা আছে দ্রাবিড়ের। দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে খেলা দ্রাবিড়কে থাকতে হয়েছিল রানার্সআপ হয়েই।
চার বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে তো রাহুলের নেতৃত্বে খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় ভারত। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতেই সব পাওনাগণ্ডা বুঝে পেলেন রাহুল দ্রাবিড়।