যানজট কমাতে চট্টগ্রামে চালু হলো পে-পার্কিং

যানজট কমাতে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে পে-পার্কিং ব্যবস্থা চালু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। প্রথম পর্যায়ে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার দুটি জায়গায় ১৭৭টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বি-ট্র্যাক সলিউশন নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে আগ্রাবাদের সিলভার স্পুন রেস্টুরেন্টের সামনে এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক সড়কে পে-পার্কিংয়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নাগরিকরা ‘ইয়েস পার্কিং’ নামে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইন এবং নগদ টাকা দুভাবেই পার্কিংয়ের জায়গা ভাড়া নিতে পারবেন।

ইয়েস পার্কিং নামে এই অ্যাপের মাধ্যমে শুরুতে আগ্রাবাদের সিলভার স্পুনের সামনে থেকে কমার্স কলেজ পর্যন্ত এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সড়কে ১৭৭টি গাড়ির পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা এই ইয়েস পার্কিংয়ে তিন ও চার চাকার গাড়ি রাখবেন, তাদের ঘণ্টা প্রতি ৩০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাখতে চাইলে দিতে হবে ২০০ টাকা। আর দুই চাকার গাড়ি অর্থাৎ মোটরসাইকেল বা স্কুটি রাখতে হলে ঘণ্টায় ১৫ টাকা হারে পরিশোধ করতে হবে। দুই চাকার যান সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাখলে দিতে হবে ১০০ টাকা। যেসব চালকের স্মার্টফোন নেই, তারা ইয়েস পার্কিংয়ের ছয়জন এজেন্টের মাধ্যমে পার্কিং সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

সিটি মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী গতকাল রবিবার দুপুরে পে-পার্কিং পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘নাগরিক সমস্যার ডিজিটাল সলিউশন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যানজট কমাতে আগ্রাবাদে পে-পার্কিং চালু করা হলো। এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে নগরীতে আরও পে-পার্কিং স্পট চালু করা হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, ‘নগরীতে গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা তা পে-পার্কিংয়ের মাধ্যমে লাঘব হবে বলে আশা করি। এ ছাড়া আধুনিক সিগনাল সিস্টেম চালু হলে যানজট কমবে।’

অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাসুদ আহাম্মদ, প্যানল মেয়র গিয়াস উদ্দিন, আফরোজা কালাম, কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।