প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদ ও কোটা সংস্কারের দাবি জানিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে 'মেধাবীদের কান্না আর না আর না', 'কোটাবৈষম্য নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক', 'কোটা প্রথায় নিয়োগ পেলে দুর্নীতি বাড়ে প্রশাসনে', 'মেধাবীদের যাচাই করো কোটা পদ্ধতি বাতিল করো', '১৮ এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার', 'দেশটা নয় পাকিস্তান, কোটার হোক অবসান', 'কোটা বৈষম্য নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক' ইত্যাদি। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন।
রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্য সচিব আমানুল্লাহ আমান বলেন, কোটা সম্পূর্ণ বাতিল হোক, সেটি আমাদের দাবি নয়। এদেশের স্বাধীনতায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অতুলনীয়। তবে তাই বলে তাদের জন্য বৃহৎ পরিমাণ কোটা রাখার কোনো মানে হয় না। একজন কোটাধারী একাধিকবার কোটা সুবিধা ভোগ করায় কোটাবিহীন শিক্ষার্থীরা সর্বক্ষেত্রেই তাদের থেকে পিছিয়ে থাকে। আমরা কোটা বাতিল চাই না, কোটা পদ্ধতির সংস্কার চাই। চাকরিতে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হোক। সেই সঙ্গে কোটা সুবিধা ভোগকারী কোনো ব্যক্তি যেন জীবনে যেকোনো একটি ক্ষেত্রে কোটার সুবিধা নিতে পারেন।
স্টুডেন্টস রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহেদী সজীব বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সাম্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরে এসেও সাম্য প্রতিষ্ঠা হয়নি। আমাদের দেশে একজন কোটাধারী শিক্ষার্থী তার জীবদ্দশায় একাধিকবার কোটার সুবিধা পান। এই পদ্ধতি বাতিল করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাবেয়া মুহিবের সঞ্চালনায় বিক্ষোভে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।