দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এলো জুনে

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও ঈদের মাসের কারণে সদ্য শেষ হওয়া জুন মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জুনে ২৫৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত ৪৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে একক মাস হিসেবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০ সালের জুলাইয়ে, প্রায় ২৬০ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সদ্য শেষ হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২০০ কোটি ডলার করে রেমিট্যান্স এসেছে। এতে করে সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৩৯২ কোটি ডলার, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রবাসী আয়ের বিপরীতে এখন ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলারের উচ্চ দর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা উৎসাহিত হচ্ছেন এবং সে কারণে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়েছে। গত মে মাসে এক দিনে ডলারের দাম ৭ টাকা বৃদ্ধি করে ১১৭ টাকা করা হয়, যা বিদেশ থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়াতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় তদারকি কমিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অর্থ বৈধ পথে দেশে আনার ক্ষেত্রে যে নিয়মকানুন রয়েছে, তা শিথিল করা হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রবাসী আয় দেশে আসার ক্ষেত্রে।

গত জুনে যে রেমিট্যান্স এসেছে, তা আগের বছরের জুনের চেয়ে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৬১ কোটি ডলার। সে হিসাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৩১ কোটি ডলার বেশি। এর আগে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ ডলার।

তবে এখনো প্রবাসীর তুলনায় রেমিট্যান্সে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশ থেকে বিশে^র বিভিন্ন দেশে কর্মী গেছেন ২ লাখ ২৬ হাজার ৮৩৭ জন। আর ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রবাসে রেকর্ড ১৩ লাখ ৫ হাজার ৪৫৩ জন কর্মী বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য গেছেন। কিন্তু সেই অনুপাতে প্রবাসী আয় বাড়েনি। বর্তমানে সব মিলিয়ে বিদেশে অবস্থানকারী প্রবাসীর সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লাখ ২ হাজার ৩৬০। যদিও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর দাবি, প্রবাসী বাংলাদেশি ১ কোটি ৩০ লাখ। সে হিসাবে মে মাসে একজন প্রবাসী গড়ে টাকা পাঠিয়েছেন ২০ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। অথচ অর্থের পরিমাণ গড়ে ৩০ হাজারের বেশি হওয়ার কথা।