শিশুদের মলদ্বারের যত্নে অবহেলা করা উচিত না। শিশুদের মলদ্বারে নানা রকম রোগ হতে পারে। শিশুদের পাইলস হলে বড়দের চেয়ে বেশি রক্ত যায়। অভিভাবকরা শিশুদের যে পাইলসের সমস্যা অর্থাৎ টয়লেটে রক্ত গেলে চিকিৎসকের কাছে আসেন তাদের বেশির ভাগই পাইলস নয়। শিশুদের টয়লেটে রক্ত যাওয়ার প্রধান কারণ রেকটাল পলিপ। এটি এক ধরনের আঙুর ফলের মতো টিউমার, যা ক্যানসার নয়। এগুলো এক বা একাধিক হতে পারে এবং এরূপ শত শত পলিপ থাকতে পারে, যা থেকে সাধারণত রক্ত ও মিউকাস বা আম যায়। রোগীর অভিভাবকরা মনে করেন যে, এটি রক্ত আমাশয় এবং ওষুধ দিয়ে ভালো করা যাবে। রেকটাল পলিপ রোগের চিকিৎসা হচ্ছে এটিকে কেটে ফেলে দেওয়া।
শিশুদের পায়ুপথে যেসব রোগ দেখা দেয় শিশুদের খাদ্যাভ্যাস ও ডিভাইস আসক্ত জীবনযাপনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। আমাদের দেশের বেশির ভাগ শিশু এই কোষ্ঠকাঠিন্যের ফলে মলদ্বারে বিভিন্ন রোগে ভুগে থাকে।
ফিসার : কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে পায়ুপথের সামনে অথবা পেছনে ফেটে গিয়ে ক্ষত তৈরি হলে তাকে ফিসার বলে। বাংলায় বলে ভগন্দর। এই সমস্যায় তীব্র বা মাঝারি ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয়। মলত্যাগের সময় সামান্য রক্ত যায়। পায়ুপথ সরু ও লালচে হয়ে আসে।
পাইলস : বড় বাচ্চাদের, সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে হতে পারে এ রোগ, যার ইংরেজি নাম হেমোরয়েড। বাংলায় অর্শ। পাইলস ক্রমান্বয়ে আকারে বৃদ্ধি পেয়ে নিচে নেমে আসে। পায়ুপথকে ঘড়ির সঙ্গে তুলনা করলে ৩টা, ৭টা ও ১১টার কাঁটার জায়গায় তিনটি রক্তের শিরা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে চাপ খেয়ে ফুলে ক্রমে নিচের দিকে নামতে থাকে। এর পাঁচটি পর্যায় আছে। পাইলস ব্যথাহীন হলেও প্রচুর রক্তপাত হতে পারে। ছোট শিশুদের এমন রোগ হয় না বললেই চলে।
ফোড়া বা এবসেস : পায়ুপথের ভেতরে ও বাইরে ছোট-বড় নানা ধরনের ফোড়া হতে পারে। শিশুদের অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতার অন্যতম কারণ। অস্ত্রোপচার না করলে এ সমস্যায় আক্রান্ত শিশুর পরে ফিস্টুলা হওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি।
ফিস্টুলা : ফিস্টুলা হলো একটি ঘা, যার একটি মুখ পায়ুপথের বাইরে, অপরটি ভেতরে থাকে। ফোড়া হওয়ার কারণে এটি হয়।
প্রোলাপস : পায়ুপথ দিয়ে অনেক সময় বৃহদন্ত্রের কোনো অংশ আংশিক বা পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারে। একে প্রোলাপস বলে।
হেমাটোমা : কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে পায়ুপথের রক্তনালি ফেটে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। কখনো কখনো প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে।
পলিপ : শিশুদের বারবার পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত যাওয়া এবং ওষুধে নিরাময় না হওয়া। এমন হলে অবশ্যই পায়খানার রাস্তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি পলিপ থাকে তাহলে অবশ্যই অপারেশন লাগবে।