সাজেকে আটকা ৬৫০ পর্যটক ফিরলেন খাগড়াছড়িতে

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া ৬৫০-এর বেশি পর্যটক বিকল্পব্যবস্থায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে ফিরেছেন। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির বাঘাইহাটে জমা পানি কমতে শুরু করায় গতকাল বুধবার দুপুরে তারা খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটকরা প্রথমে সাজেকের গঙ্গারামমুখ পর্যন্ত পৌঁছার পর সেখান থেকে নৌকায় বাঘাইহাট বাজার পার হন। এরপর অন্য গাড়ি নিয়ে তারা খাগড়াছড়িতে পৌঁছান।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, বাঘাইহাট বাজারে পানি কমতে শুরু করায় দুপুরে সাজেক থেকে পর্যটকবাহী গাড়ির বহর যাত্রা শুরু করে। পর্যটকরা গঙ্গারামমুখ পর্যন্ত গাড়িতে গিয়ে এরপর ডুবে থাকা সড়কের অংশ নৌকায় পার হন। সবশেষে তারা খাগড়াছড়ি থেকে ছেড়ে আসা গাড়িতে করে খাগড়াছড়ি পৌঁছান।

দুপুরে সাজেক জিপ সমিতির লাইনম্যান ইয়াসিন আরাফাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৃষ্টি না হওয়ায় পানি দ্রুত কমছে। আর বৃষ্টি না হলে বিকেলের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

এদিকে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার কাচালং সরকারি ডিগ্রি কলেজ বন্যার পানির নিচে তলিয়ে থাকায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ও স্নাতক পরীক্ষা নিয়ে বিপাকে পড়েছে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলা সদরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় একই পরিণতি হয়েছে কলেজ ক্যাম্পাসেরও। প্রায় তিন থেকে পাঁচ ফুট পানির নিচে চলে গেছে শ্রেণিকক্ষ, কলেজ ক্যাম্পাস ও অধ্যক্ষের বাসভবনসহ পুরো ক্যাম্পাস। এমন অবস্থায় গতকাল সকালে কলেজের দোতলায় স্নাতক পরীক্ষার্থীরা পানি ডিঙিয়ে অংশগ্রহণ করলেও আজ বৃহস্পতিবার এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা কীভাবে অংশ নেবেন, তা বুঝতে পারছে না কলেজ কর্র্তৃপক্ষ।

বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়েছে জানিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা রবিবার থেকেই পানির নিচে। আর মঙ্গলবার রাতে পুরো কলেজ ক্যাম্পাসই পানির নিচে চলে যায়। যেহেতু রাতে আর কিছুই করার ছিল না, তাই পরীক্ষার্থী কম থাকায় পূর্বনির্ধারিত স্নাতক পরীক্ষা কোনোভাবে দোতলায় চালিয়ে নিলেও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা কোনোভাবেই নেওয়া সম্ভব না, যদি পানি না কমে। বোর্ড থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসককে অবহিত করে তাদের মাধ্যমে বোর্ডকে জানানোর জন্য আমাকে বলা হয়েছে, আমিও সেটাই করেছি। কিন্তু বিকেল পর্যন্ত কোনো পরবর্তী নির্দেশনা পাইনি।’

কলেজ অধ্যক্ষ জানান, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ৪৬৮ জন। ফলে নিচতলা ব্যবহার করা ছাড়া পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়।