মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের কলড্রপ (কথা বলতে বলতে হঠাৎ কেটে যাওয়া, কল না যাওয়া, কিংবা কথা শুনতে না পারা) বিষয়ক অভিযোগ বেশ পুরনো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামীণফোনের কলড্রপের কারণে মানুষ ত্যাক্ত-বিরক্ত। দেশের শীর্ষ এ মোবাইল অপারেটরের বিরুদ্ধে এবার শক্ত অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
এ প্রসঙ্গে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ‘কলড্রপ ইস্যুতে গ্রামীণফোনকে শোকজ করেছে বিটিআরসি। গ্রামীণফোন যদি সদুত্তর দিতে না পারে তাহলে ২ কোটি থেকে ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে তাদের।’ গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত জিপিটি প্ল্যাটফর্ম ‘জি-ব্রেইন’-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘কলড্রপ ইস্যুতে দেশব্যাপী মনিটরিং চলছে। অন্য অপারেটরদেরও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘তরঙ্গ বরাদ্দের তুলনায় ব্যবহার কম। গ্রামীণফোন বারবার বলে তাদের মোবাইল টাওয়ার কম। কিন্তু তারা বিটিআরসির বরাদ্দকৃত তরঙ্গ কেন ব্যবহার করছে না? ওই তরঙ্গ ব্যবহার করতে গেলে আরও কিছু প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগের বিষয় আছে, যেসব বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি ছিল। কেন তারা সেটা করল না? এ কারণে আমরা তাদের শোকজ করেছি।’
এর আগে, গত ৩০ জুন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আয়োজিত মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান-সংক্রান্ত বৈঠকে শীর্ষ কর্মকর্তাদের ডেকে নিয়ে সতর্ক করা হয়। সেখানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কলড্রপ এখন একটি নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে অসন্তোষের শেষ নেই। আগামী ছয় মাসের মধ্যে কলড্রপ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনতে হবে। আমরা জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকেই অ্যাকশনে যাব।’
গতকালের ওই অনুষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বাংলাদেশের নিজস্ব জিপিটি (জেনারেটিভ প্রি-ট্রেইনড ট্রান্সফরমারস) প্ল্যাটফর্ম ‘জি-ব্রেইন’-এর উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে ডেটা বা তথ্য-উপাত্ত। সে ডেটা ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা জেনারেটিভ এআই সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্বে প্রযুক্তির প্রভাব ও প্রসারের চিত্র বদলে দিয়েছে। বর্তমানে যে দেশ, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছে যত সমৃদ্ধ ডেটা ও প্রযুক্তি আছে, সে প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা দেশ তত বেশি সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।’
সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশের সংবিধান, বাজেট এবং স্টার্ট-আপ এ তিনটি জিপিটি নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘জি-ব্রেইন’ (িি.িমনৎধরহনফ.ধর) প্ল্যাটফর্মটি। ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ ও এডিপি বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত জিপিটিও যুক্ত হবে এ প্ল্যাটফর্মটিতে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরও সহজলভ্য হলো।
পলক বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পরিবর্তনের সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান, দেশ বা জাতি যদি খাপ খাইয়ে নিতে না পারে, তাহলে তারা এখান থেকে ছিটকে পড়বে। আমাদের সাইবার সিকিউরিটি, মেশিন লার্নিং, মাইক্রো চিপ ডিজাইন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর দক্ষতা ও সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। অন্যথায় শ্রমনির্ভর অর্থনীতির ওপর বেশিদিন টিকে থাকতে পারব না। নিজেদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জকে জয় করতে চাই। সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের গড়ে তুলতে হবে এআই, ডেটা অ্যানালিটিকস ও মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ সমৃদ্ধ স্মার্ট ও মেধাবী প্রজন্ম। আর সেই স্মার্ট প্রজন্মই গড়ে তুলবে আমাদের আগামীর উন্নত সমৃদ্ধ জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ।’
এদিকে ডাক বিভাগের কর্মীদের ৫৫ কোটি টাকার প্রতারণার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর বিভাগীয় ব্যবস্থা। অপরাধ বিবেচনায় চাকরিচ্যুত করা হবে। প্রয়োজনে ফৌজদারি আইনে মামলা।’