শরীফার মামলার শুনানি শিগগির

হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত হয়ে প্রায় ২৪ বছর ফাঁসির সেলে (কনডেম সেল) থাকা শরীফা বেগমের মামলাটি শিগগির শুনানিতে আসছে। আগামী মঙ্গলবার (৯ জুলাই) এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ওইদিন মামলাটি কার্যতালিকার শুরুর দিকে রাখতে ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার আপিল বিভাগের কার্যতালিকার শুরুর দিকে শরীফার মামলাটি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।’

১ জুলাই দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ‘ফাঁসির দিন গুনে এক নারীর ২৪ বছর’ শিরোনামে এবং ‘শরীফাকে কেউ মনে শুনানি শিগগির রাখেনি’ উপ-শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওইদিন সকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবেদনটি নজরে নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। আপিল মামলাটি দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাস বয়সী মেয়ে সূচী আক্তারকে রেখে ২৬ বছর আগে হত্যা মামলায় শরীফা বেগম কারাগারে যান। ৫৫ বছরের জীবনের প্রায় ২৪ বছরই ‘মৃত্যু সেলে’ থাকা শরীফার মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাটে সংঘটিত ওই খুনের ঘটনায় ১৯৯৮ সালে গ্রেপ্তারের পর ২০০০ সালের ৩১ অক্টোবর বিচারিক আদালতে তার ফাঁসির রায় হয়। সেই থেকে তিনি ফাঁসির সেলে (কনডেম সেল) বন্দি। ২০০৩ সালের ২২ জুলাই হাইকোর্টে তার সাজা বহাল থাকে। এরপর ২১ বছরেও তার আপিল নিষ্পত্তির তথ্য মেলেনি। এই দীর্ঘ সময় ফাঁসির সেলে থাকা শরীফার কথা আদালত, কারা কর্তৃপক্ষ, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় কারও মনে আসেনি। দীর্ঘ সময়েও এই নারী জানতে পারেননি তিনি দোষী না নির্দোষ। কারা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কারা ইতিহাসে আর কোনো নারী আসামিকে এত দীর্ঘ সময় ফাঁসির সেলে থাকতে হয়নি। এত লম্বা সময় (২৬ বছর) কোনো নারী কারাবাসে ছিলেন কি না, সে তথ্যও মেলেনি। শরীফার মতো জামালপুরের আবদুস সামাদ আজাদ ওরফে সামাদও একই মামলায় গত ২৪ বছর ধরে ফাঁসির সেলে বন্দি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে শরীফা আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের ফাঁসির সেলে। বিচারিক আদালতে রায়ের পর থেকে ছিলেন পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (এখন কেরানীগঞ্জে)। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুরে। দীর্ঘদিন জেলে থাকায় স্বামী মো. ওবায়দুল্লাহ অনেক আগেই অন্যত্র বিয়ে করেছেন। তিনি শরীফার কোনো খোঁজ নেন না। ছেলে অরিদ মিয়া স্থানীয় একটি বাস পরিবহনে চালকের সহকারীর কাজ করেন। আর্থিক অসংগতি ও মুক্তির সম্ভাবনা নেই মনে করে শরীফার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ কমে গেছে।