চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, গীতিকবি, সুরকার, চিত্রনাট্যকার, কাহিনিকার, চলচ্চিত্র সম্পাদক, চিত্রগ্রাহক, সংগীত পরিচালক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা তিনি। সাধারণ পোশাক তার পছন্দ। সূর্য ডোবার আগেই এলেন দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। কিছুক্ষণ আড্ডা হলো সম্পাদক মোস্তফা মামুনের রুমে। তারপর গেলেন ছবি তুলতে। সেখানে সময় নিলেন অনেকক্ষণ। এরপর ডিজিটাল রুমে। শুরু হলো তুমুল আড্ডা। ছিলেন সহকারী সম্পাদক তাপস রায়হান, হেড অব ডিজিটাল আপেল মাহমুদ, সিনিয়র সহ-সম্পাদক সালাহ উদ্দিন শুভ্র এবং সিনিয়র সহ-সম্পাদক মাহতাব হোসেন। ক্যামেরায় ছিলেন লিটু হাসান।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই গুণী পরিচালক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছেন। চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাবেক সভাপতি এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত দেলোয়ার জাহান ঝন্টু একপর্যায়ে বললেন মোট কতগুলো ছবি হইছে, হিসাব কইরা ঠিকমতো বলতে হইবো। মনে হয়, দুইশর ওপরে ছবি পরিচালনা করছি। আর চিত্রনাট্য লিখছি প্রায় ৩০০ ছবির। সময় তো কম হইলো না! শুরু হইছিলো সেই কবে ...!
তাপস রায়হান : আমরা জানি, ১৯৬৪ সালে আপনি প্রথম এফডিসিতে যান। তখন গিয়েছিলেন কোনো একটি ছবির শুটিং দেখতে। সেই গল্পটা সংক্ষেপে আমাদের বলবেন?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : এফডিসির গেটে আসার পর দারোয়ান বলে এইখানে কিয়ের লিগা আইছস? যাহ্ ...! আমার বয়সটা বোঝেন? ১৯৬৫ সালে মেট্রিক দেই। এর মানে তখন পড়তাম ক্লাস টেনে। এরপর আমি সেইখান থিকা চইলা গেলাম। পরে লুকাইয়া লুকাইয়া আরেক জায়গা দিয়া এফডিসিতে ঢুকলাম। দেখলাম জহির রায়হানের একটা ছবির শুটিং হইতাছে। নামটা মনে নাই। ক্যামেরাম্যান ছিলেন সাধন রায়। সেই সময়ের একজন বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান। তার অনেক ছাত্র আছে, যারা পরবর্তী সময়ে নাম কুড়িয়েছেন। যখন নায়করা শট দেবে, তখন লাইট মাপার জন্য একটা যন্ত্র নিয়া নাকের সামনে ধরে, মুখের সামনে ধরে। সামনে দাঁড়ানো একজন সহকারী ক্যামেরাম্যান। সহকারীদের তিনি বলতাছে ঐটা নিয়া আয়, ঐটা ব্যাক কর, টিল ডাউন, সফট সফট। এসব কথার কিছুই বুঝতেছি না। আমি ভাবতেছি, ঐটা দিয়া তিনি কী করতাছেন (দুই হাত এক করে দেখালেন)? এখন তো এসব বুঝি। দেখলাম সোলার, না না বেবি, লাইটের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হইলো ‘বেবি’। ‘সোলার’ সেকেন্ড আর ‘পাঞ্জা’ সবার বড়। তো সেইটা সফট, হার্ড করতাছে (হাতের আঙুল ঘুরিয়ে দেখালেন)। এরপর তিনি জহির রায়হানের উদ্দেশে বললেন স্যার আমি রেডি, আপনি টেক করেন? আমি সেই লোককে বললাম, ভাই একটা কথা জিগাই? তিনি একটু উচ্চকণ্ঠে বললেন কী? আমি বললাম ঐ যে নাকের সামনে মেশিনটা ধরে, ঐইডা কী? তিনি ধমক দিয়ে বললেন ঐটা বুঝবি না। সর এইখান থিকা ঠিক এই ভাষায় বলল। তার ডায়ালগটা কিন্তু এখনো মনে আছে। এরপর তো ঢাকা থেকে কুমিল্লা চলে গেলাম। এরপর কুমিল্লা হাইস্কুল থেকে মেট্রিক দিলাম। আবার আমার মা বদলি হইয়া ঢাকায় আসলো। তিনি সেন্ট্রাল জেলের মেট্রন ছিলেন। এরপর তো চলে আসলো একাত্তর সাল। মার্চ মাসের ৭ তারিখে রেসকোর্স ময়দানে গেলাম বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনতে। মিছিলের পর মিছিল আসতাছে। আমার কাঁন্ধেও লাঠি। ভাষণ শুনলাম। রক্ত গরম হইয়া গেল। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুইনা রক্ত গরম হয় না, এই রকম মানুষ নাই। অবশ্য রাজাকার আর মুসলিম লীগ ছাড়া। এরপরই আমার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেড়াতে গেলাম। শুনলাম ভৈরব পার হইয়া পাক আর্মিরা চইলা আসছে। আমরা ভাবলাম, আশুগঞ্জের পরই তো ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আর্মি আসতে কতক্ষণ? তখন মা-বাবা আর শহরে থাকল না। সেখান থেকে ৩ মাইল দূরে, এক আত্মীয়ের গ্রামের বাড়িতে গেলাম। তারা আর কদিন রাখব আমাদের? সবাই এক রুমে বইসা ঝিমাই আর ঘুমাই। ৭-৮ দিন পর শুনলাম, পাক আর্মিরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া তো আসছেই, এখন গ্রামেও আসব সরাইলের দিকে। এরপর সেইখান থিকা আমরা আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে চইলা গেলাম। যাইতে যাইতে অনেক ভিতরে গেলাম। সেইখানে একটা গ্রাম আছে। নাম সাতগাঁও। (আঙুল দিয়ে দেখালেন) এই যে, এইটা সাতগাঁও আর ঐটা ভারত। বলতে গেলে এইটা নোম্যানস ল্যান্ড। যে বাড়িতে গেলাম, তার আশপাশে কোনো হাটবাজার নাই। ৩-৪ মাইল দূরে। একদম সীমান্ত, ভারতের জায়গাটার নাম বামুটিয়া। সেইখানে হাটবাজার আছে। সেখানে নিরাপত্তার কোনো বালাই নাই। সবাই সেখান থিকা বাজার করে। যখন শুনলাম, পাক আর্মিরা চইলা আসতেছে তখন মা-বাবা বলল তোমরা এইখান থিকা চইলা যাও। আমি, আমার ২ বড় ভাই, একজন সারোয়ার জাহান স্বাধীনতার পরে ক্যাপ্টেন হইছিলো আর সংগীত পরিচালক আনোয়ার জাহান নান্টু। আর ছোট ভাই ইফতেখার জাহান, সেও পরিচালক আর খালাত ভাই আতাউর রহমান টুনু আমরা চলে গেলাম আগরতলার দিকে। এরপর বর্ডার ক্রস করে বামুটিয়া বাজারে আসলাম। লোকজন তো শুধু আমাদের দিকে তাকায়। বলে আপনেরা কি হেইপার থিকা আইছেন? কই যাইবাইন? আমি বললাম যামু কই, জানি না। আগে আগরতলা টাউনে যাই। আগরতলার অধিকাংশ মানুষ কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার। এরপর তো অনেক ঘটনা...। সেখান থেকে আমরা কলেজটিলা গেলাম। পাহাড়ের অনেক ওপরে। সেটি আগরতলার সবচেয়ে বড় কলেজ। সেখানে দেখলাম, লোকে লোকারণ্য। কুমিল্লা আর ঢাকার পরিচিত অনেকের সঙ্গে দেখা হলো। সেখান থেকে অনেকেই চলে গেলাম দেরাদুনে ট্রেনিংয়ে । বেসিক ট্রেনিং নিলাম।
আমরা গান বাজনাও জানতাম। সে কী যে দুর্বিষহ জীবন...! কোনোভাবে থেকে-খেয়ে বেঁচেছিলাম। একটা মজার ঘটনা আছে। একদিন ভারতীয় আর্মিরা জিপ দিয়া আমাদের নিয়া গেল- পাহাড়ের অনেক ওপরে। জায়গাটার নাম- ওমটি। সেখানে আমরা গান গাইব। মুক্তিযোদ্ধারা অনেক খুশি হইল। একসময় আমরা স্টেজে উঠলাম। অনেক গান হচ্ছে। সুজিত কুমার নামে একজন ছিলেন চট্টগ্রামের। মেহেদি হাসানের গান খুব ভালো গাইতেন। তিনি মেহেদি হাসানের একটি গান গাইছেন- মুঝে তুম নজর সে, দিরাতে রহো... এতটুকু গাওয়ার পরই ভারতীয় আর্মিরা ধমক দিয়ে গান থামালেন। বললেন- স্টপ, স্টপ দিস ননসেন্স। আমরা সবাই তো অবাক। ভাবলাম, এটা পাকিস্তানি মেহেদি হাসানের গান এই কারণে হয়তো উত্তেজিত হয়েছে। কিন্তু সবার উদ্দেশে সে হিন্দিতে একটি কথা বলল। (দেলোয়ার জাহান ঝন্টুও হিন্দিতে বললেন)। যার বাংলা হচ্ছে তোমরা এখানে এসেছো দেশ স্বাধীন করার জন্য। দেশ শত্রুমুক্ত করার জন্য। তোমরা সবাই বাংলাদেশি। এখানে কোনো উর্দু, হিন্দি গান হবে না। শুধু বাংলা গান হবে। রক্ত গরম হয়ে যায়, এইরকম গান গাও। দেশপ্রেম কাকে বলে ...! এভাবেই মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় পার করলাম।
আপেল মাহমুদ : সেখানে কতদিন ছিলেন?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : ১০ মাস এভাবেই গেল। স্বাধীনতার আগেই আমাদের বলা হলো এখন আর গান-বাজনা নাই। তোমরা এখন যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হও। এরপর আমরা অস্ত্র নিয়া আখাউড়া আসলাম। বেশ কিছু ফায়ার হলো। কিছু বিধ্বস্ত ট্রেন, বগি দেখলাম। সেদিন ছিল ১৩ তারিখ। এরপর ভৈরব আসলাম। পায়ে হাঁটা ছাড়া তো উপায় নাই। রাত্রে রওনা দিলাম ১১ জন। এরপর অনেক ঘটনা। ১৬ তারিখে আমরা থাকব ঢাকা। এর মধ্যে রেডিওতে শুনলাম- অরোরা ১৬ তারিখ সকালে বলছে (হিন্দিতে দেলোয়ার জাহান ঝন্টু বললেন। বাংলায় এ রকম) তোমরা সবাই সিপাহি। আমরাও সিপাহি। একজন সিপাহির জন্য আরেকজন সিপাহির কাছে আত্মসমর্পণে কোনো লজ্জা নেই। তোমরা আত্মসমর্পণ করো। তখন আমরা শীতলক্ষ্যা নদী পার হচ্ছিলাম। ঢাকা শহরে আসলাম। এরপর তো কত ঘটনা।
সালাহ উদ্দিন শুভ্র : ছবি নির্মাণ শুরু করলেন কবে?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : ১৯৭২ সালে। যেটা শুরু করেছিলাম, সেটা শেষ করতে পারিনি। মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি ‘বন্দুক’। যেটা আগে শুরু করেছিলাম, শাবানা আর প্রবীর মিত্রকে নিয়ে সেটা ‘লিডার’। ‘বন্দুক’ মুক্তি পায় ’৭৮ সাল
মাহতাব হোসেন : বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আপনাদের কথা হয়েছিল? বঙ্গবন্ধু কী বলেছিলেন?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : তখন রাজ্জাক ভাই, আলমগীর, কবরী, ফারুক, ববিতা, কাজী জহির এবং আমরা ছিলাম। আমরা বলেছিলাম ভারতীয় ছবি এলে আমাদের ছবি কে দেখবে? তিনি বলেছিলেন বছরে তোরা কটা ছবি দিতে পারবি? আমাদের পক্ষ থেকে বলা হলো প্রতি সপ্তাহে আমরা ১টি করে ছবি দিতে পারব। তিনি বললেন, পারবি তো? আমরা বললাম হ, পারব। তিনি বললেন যা, ভারতীয় ছবি চলবে না। এই যে ভারতীয় ছবি আমদানি বন্ধ হয়ে গেল, আর এলো না। কিন্তু এখন? কিছু কুচক্রী মহল ভারতীয় ছবি আমদানির জন্য পাগল হয়ে গেছে।
আপেল মাহমুদ : কিন্তু ভারতীয় ছবি আমদানি না হলে, সিনেমা হল ক্ষতিগ্রস্ত হবে না?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : একদম না।
আপেল মাহমুদ : সিনেমা হল বাঁচাতে হবে না?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : (হালকা উত্তেজিত) হলের দরকার নাই। কোনো দরকার নাই। ছবি তো এমনিতেই চলে না। সিনেমা হল বাঁচানোর কোনো দরকার নাই। এসব বলে ছবি আমদানি করতে হবে, নো নিড? যত্তসব। ছবি তো এমনিতেই চলে না। আমরা কুলিগিরি কইরা ভাত খামু। এইখানে হিন্দি ছবি চলতে পারবে না। যা আপনারা দেখেন, এসব আসলে হিন্দি না। আশি ভাগ উর্দু। বিশ ভাগ হিন্দি। এখন বলেন, উর্দু মিশ্রিত ছবিই যদি আমাদের এখানে চলে, তাহলে আমরা ভাষা আন্দোলন করলাম কেন? মাহতাব হোসেন : তাহলে কি মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও উর্দু ছবি চলছে?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : অবশ্যই। সেখানে আশি ভাগ উর্দু ছবি। বিশ ভাগ হিন্দি।
মাহতাব হোসেন : এটা কি তারা জেনেশুনেই করছে?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : একদম। আমাদের মতো দেশাত্মবোধ ওদের নাই। পৃথিবীর ইতিহাসে নাই, ৯ মাসে কোনো দেশ স্বাধীন হয়?
আপেল মাহমুদ : তাহলে হিন্দি চলচ্চিত্র আমদানি করার মূল কারণ কী?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : ব্যবসা ভালো হবে- তাই। ওরাও রাজাকারের মতো। রাজাকাররা যেমন চায় নাই, এই দেশ স্বাধীন হোক, ওরাও চায় না আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি টিকে থাকুক। দেশের ভালো-মন্দের হিসাব নাই। আমার পয়সা আইলেই হইলো। দেশপ্রেম তো দূরের কথা, ওরা রাজাকারের মতো।
তাপস রায়হান : এর চেয়ে কি ভালো না, এটা না করে ভারতেও আমাদের ছবি চলুক, আমাদের এখানে চলুক ওদেরটা?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : চলুক। দেখেন পারেন কিনা?
এই মহাদেশের কয়জন আমাদের নায়ক-নায়িকা চেনে? আর ভারতীয় নায়ক নায়িকা? আরে আমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানকেই কয়জন চেনে? মুষ্টিমেয় কয়েকজন। যাদের মানুষ চেনে, তাদের ছবিই তো মানুষ দেখবে। আমাদের দর্শক তো একজন ভালো পরিচালকের নামই জানে না। ছবি আসলে কীসের ওপরে চলে?
মাহতাব হোসেন : কীসের ওপর?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : গল্প। গল্প ভালো না হলে, ৩ ঘণ্টা হলে বসে থাকা সম্ভব না। বিরক্ত হইবেন। পারবেন না।
তাপস রায়হান : ভালো অভিনয়ের দরকার নেই?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : যে ছবিটার গল্প ভালো, সেটা এমনিতেই চলে। মানুষ শরীরে ঘাম নিয়ে হলে বসে থাকে।
মাহতাব হোসেন : আপনি চিত্রনাট্যকার, গান লেখেন, কাহিনি লেখেন আর পরিচালনা তো করেনই। কিন্তু এখন তো ভালো গল্পের ঘাটতি হচ্ছে?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : না, হচ্ছে না।
তাপস রায়হান : অনেকে বলেন আপনি সচেতনভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করেন?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : না। এটা হয়ে যায়। ভুলে হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে এটা কেউ করে? এটা শতভাগ ভুলে। অথবা আমি জানি না। এটা কিন্তু চলচ্চিত্রের ব্যাপারে।
মাহতাব হোসেন : আপনার মোট ছবি কতগুলো?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : আমার ৩২০টা গল্পের সিনেমা হইছে। পরিচালনা করেছি ৮১টা চলচ্চিত্র। প্রযোজনা করেছি ২৬টি। আর গান তো হাজার হাজার। গাজী মাযহারুল আনোয়ারের পরে আমিই লিখছি।
তাপস রায়হান : আমাদের ছবি তো সব শ্রেণির মানুষ দেখে না?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : সুন্দর গল্পের ছবি সবাই দেখে।
মাহতাব হোসেন : নতুনদের মধ্যে কার কাজ ভালো লাগে? আশাবাদী মনে হয়?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : আছে। অনেকেই আছে। নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে অনন্ত জলিল ভালো।
মাহতাব হোসেন : সে তো ভুলভাল উচ্চারণ করে?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : এটা কোনো বিষয় না। ইংরেজরা ঠোঁট বাকিয়ে যখন বলে, ‘ইটা কুতো’? আপনি বুঝেন নাই, কী বলছে? এই রকমই। (দেলোয়ার জাহান ঝন্টুসহ সবাই হো হো করে হাসতে থাকল)।
তাপস রায়হান : এর মানে যে যা হতে চায়, সেই সুযোগ দেওয়া উচিত?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : সুযোগ না। অটো হবে। আমারে তো সিনেমা দেখার জন্য অনেক মাইর খাইতে হইছে। কই পারছে? পারে না।
মাহতাব হোসেন : আপনার সন্তান?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : ২ ছেলে ১ মেয়ে।
তাপস রায়হান : শেষ চাওয়া?
দেলোয়ার জাহান ঝন্টু : মনের মতো একটা ছবি বানানোর। জানি না, পারব কি না!
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র
লিডার
বন্দুক
ওমর শরিফ
সেলিম জাভেদ
আল হেলাল
নাগরানী
মহাল
ঝিনুকমালার প্রেম
বউমা
সকাল-সন্ধ্যা
মুজাহিদ
মাটির কোলে
শশী পুন্নু
সুখ শান্তি
হাতি আমার সাথী
পরিবার
অমর
ভাই আমার ভাই
ঘর বাড়ি
শিমুল পারুল
পালকি
জাঁদরেল বউ
দুঃখিনী মা
স্ত্রীর স্বপ্ন
নাচে নাগিন
নিঃস্বার্থ
ভাবীর সংসার
রূপসী নাগিন
নাগিনীর প্রেম
শান্তি অশান্তি
গরিবের বন্ধু
ভাইয়ের আদর
রূপের রানী গানের রাজা
সত্যবাদী
প্রেমগীত
নাচ নাগিনা নাচ
জালিমের দুশমন
জজ ব্যারিস্টার
ডাকাত
দেশী রংবাজ
চাকরানী
কন্যাদান
বুকের ধন
রাগ অনুরাগ
হাবিলদার
বীর বাহাদুর
হারানো প্রেম
বাঘা বাঘিনী
গরিবের সংসার
ফাঁসির আসামি
২০ বছর পর
ফাইভ রাইফেলস
নীল সাগরের তীরে
প্রেম
জল দস্যু
রাজা বাংলাদেশী
গরিবের রাজা রবিন হুড
বিষে ভরা নাগিন
দুই নাগিন
বাপ বেটির যুদ্ধ
বীর সৈনিক
বিজলী তুফান
সার্কাস কন্যা
নাচ রূপসী
বকুল ফুলের মালা
সবাই তো ভালোবাসা চায়
সাথী হারা নাগিন
হেডমাস্টার
এপার ওপার
৫২ থেকে ৭১ (২০১৬)
আকাশ মহল
তুমি আছো তুমি নেই
সুজন মাঝি
অপারেশন জ্যাকপট
চানাচুরওয়ালা
গ্রন্থনা : অনিন্দিতা আচার্য
ছবি : আবুল কালাম আজাদ
লোকেশন : গ্রিন লাউঞ্জ