আগামী এক থেকে দ্ইু মাসের মধ্যে এয়ারবাস ও বোয়িং কেনার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে। দুই দেশের প্রস্তাব মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন ফারুক খান।
কবে নাগাদ এটি চূড়ান্ত হবে জানতে চাইলে ফারুক খান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এটার প্রক্রিয়া শেষ হবে। এবারের বাজেট থেকেই অর্থায়ন করতে হবে। কয়টি বিমান কেনা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১০টির মতো বিমান কেনার পরিকল্পনা আমাদের। আপাতত কয়টি বিমান কিনব সেটা নির্ভর করে যে অর্থনৈতিক প্রস্তাব এসেছে সেটার ওপর ভিত্তি করে। তারা (মূল্যায়ন কমিটি) আমাদের কী রিপোর্ট করে। তবে অবশ্যই দুই থেকে চারটির মতো হতে পারে।
রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিভিন্ন আমেরিকান কোম্পানির কথা বলেছেন, যারা বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। আগামীতে সেটা আরও সম্প্রসারণ করতে আগ্রহী। আমিও তাকে জানিয়েছি যে, আমরা যেভাবে টেন্ডারের মাধ্যমে কেনাকাটা করি, ইভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে সেভাবেই করব। সবসময় আমরা একটা ভালো প্রোডাক্ট নিতে চাই এবং আগামীতেও তাই নেব। তিনি বলেন, আলোচনায় তিনি (রাষ্ট্রদূত) বোয়িংয়ের কথা বলেছেন। আমরা বলেছি, আগামী দিনে আমরা যখন বিমান কিনব, সেখানে কী ধরনের কোন প্লেন কিনব, সেটা মূল্যায়ন করছি। মূল্যায়ন শেষ হয়নি, সেটা যখন শেষ হবে, ইভ্যালুয়েশন কমিটি যে কোম্পানিকে সুপারিশ করবে, সেই কোম্পানি থেকে কেনার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।
আমরা শুনেছি এয়ারবাস থেকে বিমান কেনার বিষয়টি অনেকটা চূড়ান্ত এ বিষয়ে ফারুক খান বলেন, আপনার প্রশ্নের মধ্যে উত্তর আছে। আমরা আরও নতুন বিমান কিনতে চাই। কারণ সেটা আমাদের জন্য প্রয়োজন। আপনারা জানেন এই বিষয়ে বিভিন্ন এক্সপার্টদের নিয়ে একটি মূল্যায়ন কমিটি কাজ করছে। আমি হাসতে হাসতেই মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছি বাংলাদেশে কোনো জিনিস বিক্রি করার জন্য একটি ফ্রান্স এবং একটি আমেরিকান কোম্পানির মধ্যে এমন প্রতিযোগিতা আমি অতীতে দেখিনি। আমি দেখলাম তোমরা এটা নিয়ে দারুণ কম্পিটিশনে আছ। এটা প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবী। আমরা দুটোর মধ্যে যেখান থেকে ভালো অফার পাব, এখানে ফিন্যান্সিয়াল অফার আছে, অন্যান্য বিভিন্ন রকম বিষয় আছে, সবকিছু মিলে যেটা ভালো হবে সেটা কিনব। এটা ঠিক যে, এয়ারবাসও আমাদের ভালো অফার দিয়েছে।
এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ তাদের প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে না এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ফারুক খান বলেন, তিনি (রাষ্ট্রদূত) আজও আমাকে এই কথা বলেছেন। আমি বলেছি, মিডিয়াতে যখন কোনো খবর আসে সেটা খবর হিসেবে দেখবেন। আপনি জানেন যে, বাংলাদেশ সরকার এখনো এটাকে ইভ্যালুয়েশন করছে, সেটাই ফাইনাল খবর। পত্রপত্রিকা বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে বিভিন্ন কারণে নিউজ করে। নিউজগুলো পড়বেন, সেখান থেকে জানার চেষ্টা করবেন, আমিও তাই করি, পেপার পরে জানার চেষ্টা করি। আমি ফাইনালি জানি ইভ্যালুয়েশন কমিটি রিপোর্ট না দেওয়া পর্যন্ত ফাইনাল হবে না। বোয়িং থেকে বিমান না কিনলে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। এমন একটা কথা আসছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হবে কেন? আমি এটার কোনো কারণ দেখি না। আমাদের দিক থেকে এর কোনো কারণ দেখি না, আমেরিকার দিক থেকেও কারণ দেখি না। ‘আমেরিকা অতীতে অনেক বাংলাদেশি কেনাকাটায় অংশগ্রহণ করেছে, সেখানে অন্য কোনো কোম্পানিকে আমরা দিয়েছি। আমার মনে হয় এই কথাগুলো সাইডলাইনের কথা। অবশ্যই আমেরিকান কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য বিক্রি করতে চায় একইভাবে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন জায়গায় অফার দিচ্ছে। যেটা আমাদের কাছে ভালো মনে হবে, যেটাতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে, সেটাই কেনা হবে।