জিন ও পরীর মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কবিরাজ সাইফুল ইসলাম (২৯)। গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে এ প্রতারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর সফিপুর এলাকার ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২১ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের কথা বলে সাইফুল ইসলাম তার কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা নেন। ওই সময়ের মধ্যে সমাধান না হওয়ায় ফের ১৪ দিনের সময় চেয়ে আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেন সাইফুল। একপর্যায়ে মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু, মেসেঞ্জার থেকে তাকে ব্লক করে দেন।
মোশারফ হোসেন আরও জানান, সিরাজগঞ্জের একটি দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন প্রতারক সাইফুল। ওই পরিবারটি তাদের শেষ সম্বল একটি খাসি ও মুরগি বিক্রি করে তার হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড এলাকার গ্রাম্য চিকিৎসক ইব্রাহিম সবুজ বলেন, ফেসবুকে ‘জিনের দ্বারা তদবির করি’ বিজ্ঞাপন দেখে তিনি কবিরাজ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পারিবারিক সমস্যা সমাধান করে দেওয়ার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেন সাইফুল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় কৌশলে সাইফুলকে চট্টগ্রাম ডেকে নেন। পরে চাপ দিয়ে কিছু টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
জিন হাজির করার একটি ভিডিও এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এতে সাইফুল ইসলাম জিন ও পরীর সাধক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এক ব্যক্তির ওপর জিন হাজির করেছেন। ওই ব্যক্তি সাইফুলের নানা প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সাইফুল ইসলাম নিজের লোককে তুলারাশির ব্যক্তি সাজিয়ে তার ওপর জিন হাজির করার নাটক করেন। পরে সাইফুলের আগে শিখিয়ে দেওয়া কথা ওই ব্যক্তি বলে থাকেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইফুল রংপুরের কাউনিয়া থানার জিড়াবাড়ি এলাকার আশরাফুল আলীর ছেলে। ২০১৫ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি শুরু করেন। কিন্তু চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ, মানুষের সঙ্গে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে ২০২১ সালে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
রোগী সেজে এ প্রতিবেদক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, প্রথমে তার কাছে বিকাশে ১ হাজার ৫৫১ টাকা পাঠাতে হবে। এরপর জিন হাজির করে ভিডিও কলের মাধ্যমে রোগী দেখবেন।
পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি কারও সঙ্গে প্রতারণা করেননি। রোগীর সঙ্গে কথা বলে তাদের সম্মতি নিয়ে চিকিৎসা করে থাকেন। অনেকের উপকার হয়, আবার অনেকের হয় না। কাজ করতে কিছু টাকা খরচ করতে হয়, সেই খরচের টাকা আগেই নেন। পরে চুক্তি মোতাবেক কাজ করেন।