ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেসওয়ে ও রেল সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছে প্রভাবশালী একটি মহল। রাতের আঁধারে নির্মাণকাজ করায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও দোকানঘরগুলো ভেঙে না দেওয়ায় নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত মালীগ্রাম বাজারের এক্সপ্রেসওয়ে ও রেল সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে প্রভাবশালী একটি মহল কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণ করছেন। হঠাৎ করে ছুটির দিন ও রাতের আঁধারে এ চক্রটি ঘর নির্মাণেরকাজ করছেন। বর্তমানে টিনশেডের দোকানঘরগুলোর নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। রাতের আঁধারে দোকানঘর নির্মাণের কারণে স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাজারের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি নিক্সন চৌধুরীর নাম ব্যবহার করে প্রভাবশালী একটি মহল এ দোকানঘরগুলো নির্মাণ করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েসংলগ্ন মালিগ্রাম বাজার ও বাস স্ট্যান্ডের মধ্যবর্তী স্থানে প্রভাবশালী মহলটি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে দোকানঘরগুলো উত্তোলন করছেন। স্থানীয় এমপির নাম ব্যবহার করে জায়গাটি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন তারা। এর নেতৃত্বে রয়েছে স্থানীয় মিজানুর হাওলাদার ও শহীদ মাস্টার।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মিজানুর হাওলাদার বলেন, ‘আমার বিষয়ে যে কথাগুলো বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এখানে যে দোকানঘরগুলো উঠছে, সেগুলো পূর্বের জায়গার মালিকরা নিজেরাই অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করছেন। এই বাজারের উত্তর পাশেও অস্থায়ীভাবে পূর্বের জায়গার মালিকরা অনেক দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। যেহেতু অস্থায়ীভাবে দোকানঘরগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে, তাই সরকার প্রয়োজনে যেকোনো সময় জায়গা দখলে নিতে পারবে। এতে কারওই অপত্তি করার সুযোগ নেই।’
এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, ‘ঘর উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে তফশিলদার পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম কুদরত এ খুদা বলেন, ‘সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ বা দখল করতে দেওয়া হবে না। যদি কেউ করে থাকেন, অবশ্যই তা ভেঙে দেওয়া হবে। প্রভাবশালী যেই হোক না কেন, সরকারি জায়গা অনুমতি ছাড়া কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।’